
একাদশ-দ্বাদশস্তরে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় ফের বড় পরিবর্তন। একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউের জন্য ফের তালিকা প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন। আজ সোমবার কমিশনের ওয়েবসাইটে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। নতুন সংরক্ষণ সংক্রান্ত নিয়ম এবং আদালতের নির্দেশ মেনে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
২৮ সেপ্টেম্বরের নোটিশে কমিশন জানিয়েছে, সংশোধিত শূন্যপদ, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের নির্দেশিকা, শূন্যপদের রোস্টার সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি এবং কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে এই সংশোধিত প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এর সঙ্গে বাতিল করা হয়েছে আগে প্রকাশিত ইন্টারভিউয়ের প্রাথমিক তালিকা, ফাইনাল প্যানেল এবং ওয়েটিং লিস্ট। ফলে আগের তালিকার ভিত্তিতে যে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া হয়েছিল, সেটিও আর কার্যকর থাকছে না।
বাতিল আগের প্যানেল ও ওয়েটিং লিস্ট
কমিশনের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর প্রকাশিত সহকারী শিক্ষক পদের ইন্টারভিউয়ের যোগ্য প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা এবং ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত ফাইনাল প্যানেল ও ওয়েটিং লিস্ট বাতিল করা হয়েছে। এর আগে ২১ জানুয়ারি একাদশ-দ্বাদশ স্তরের ২য় SLST (AT), ২০২৫-এর প্যানেল ও ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশ করেছিল কমিশন। সেই তালিকার ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে কাউন্সেলিং শুরু হয়েছিল। তবে এবার সেই প্রক্রিয়ায় বদল এনে নতুন করে সংশোধিত প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হল।
বাতিল আগের কাউন্সেলিং, প্রত্যাহার সুপারিশপত্র
শুধু প্যানেল ও ওয়েটিং লিস্ট নয়, আগের তালিকার ভিত্তিতে যে সমস্ত কাউন্সেলিং সম্পন্ন হয়েছিল, সেগুলিও বাতিল করেছে কমিশন। এর পাশাপাশি ওই কাউন্সেলিংয়ের পরে প্রার্থীদের দেওয়া সমস্ত সুপারিশপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা জানিয়েছে WBSSC। অর্থাৎ, আগে সুপারিশপত্র পাওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও পুরনো সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়োগের প্রক্রিয়া এগোবে না। সংশোধিত মেধাতালিকা এবং নতুন প্যানেল প্রকাশের পরই পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়া এগোবে।
আগে ইন্টারভিউ দেওয়া প্রার্থীদের আবার পরীক্ষা নয়
তবে পুরনো তালিকায় থাকা এবং ইতিমধ্যেই ইন্টারভিউ ও লেকচার ডেমোনস্ট্রেশনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবরও দিয়েছে কমিশন। নতুন সংশোধিত তালিকায় তাঁদের নাম থাকলে আবার ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে হাজির হতে হবে না। তাঁদের আগের পরীক্ষার নম্বরই বহাল থাকবে। অর্থাৎ তাঁদের ক্ষেত্রে OMR-ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষার নম্বর + শিক্ষাগত যোগ্যতার নম্বর + আগের মৌখিক ইন্টারভিউ ও লেকচার ডেমোনস্ট্রেশনের নম্বর মিলিয়েই সংশোধিত চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরির সময় বিবেচনা করা হবে।
নতুন করে যাঁরা তালিকায় এলেন
অন্যদিকে, সংশোধিত প্রাথমিক তালিকায় যাঁদের নাম নতুন করে যুক্ত হয়েছে, তাঁদের জন্য পরবর্তী ধাপে নথিপত্র যাচাই এবং ইন্টারভিউ-লেকচার ডেমোনস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা হবে।
কমিশন জানিয়েছে, নতুন করে অন্তর্ভুক্ত প্রার্থীদের মূল শংসাপত্র, সার্টিফিকেট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথির ভেরিফিকেশন করা হবে। এরপর তাঁদের মৌখিক ইন্টারভিউ ও লেকচার ডেমোনস্ট্রেশনের সম্ভাব্য সময়সূচি জানানো হবে। অর্থাৎ নতুন তালিকায় নাম ওঠা প্রার্থীদের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই ধাপগুলি এখনও বাকি।
ফের মেধাতালিকা, ফের প্যানেল
সংশোধিত প্রাথমিক তালিকার পর আবার পুরো প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ শুরু হবে। নতুন করে নথি যাচাই ও প্রয়োজনীয় ইন্টারভিউ-লেকচার ডেমোনস্ট্রেশন শেষ হলে সংশোধিত চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। সেই তালিকা থেকেই তৈরি হবে নতুন প্যানেল এবং ওয়েটিং লিস্ট। ফলে আগে প্রকাশিত প্যানেল ও ওয়েটিং লিস্টের পরিবর্তে নতুন সংরক্ষণ কাঠামো অনুযায়ী তৈরি তালিকাই পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কার্যকর হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ফের প্রশ্ন
এই সিদ্ধান্তের ফলে একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও এক দফা পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রার্থীদের একাংশের তরফে নতুন করে আইনি জটিলতার আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে।
তবে কমিশনের তরফে যে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে, তা হল—আগে ইন্টারভিউ ও লেকচার ডেমোনস্ট্রেশন দিয়ে যাঁরা সংশোধিত তালিকায় রয়েছেন, তাঁদের সেই ধাপ নতুন করে দিতে হবে না। তাঁদের আগের নম্বরই বহাল থাকবে।
এখন নজর নতুন তালিকায় থাকা প্রার্থীদের নথি যাচাই, নতুন করে প্রয়োজনীয় ইন্টারভিউ এবং তার পরের সংশোধিত চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রকাশের দিকে।