
গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর সোমবার রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি খুলতেই পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনস্থ প্রায় ১,৬০০টি মাদ্রাসায় সকালবেলার প্রার্থনায় গাওয়া হল ‘বন্দে মাতরম’। রাজ্য সরকারের নির্দেশ মেনে প্রতিটি মাদ্রাসায় এই জাতীয় গান পরিবেশন করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
শুধু গান গাওয়াই নয়, নির্দেশ পালনের প্রমাণ হিসেবে প্রতিটি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষিকাদের সেই প্রার্থনা-পর্বের ভিডিও রেকর্ড করতে বলা হয়েছিল। পরে সেই ভিডিও সংশ্লিষ্ট স্কুল সাব-ইন্সপেক্টর ও জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের পরিচালিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আপলোড করা হয়।
একাধিক মাদ্রাসা জানিয়েছে, রাজ্য সরকারের ২০ মে জারি করা নির্দেশিকা অনুসরণ করে তাঁদের মাদ্রাসার প্রায় ৩৫০ জন ছাত্রছাত্রী ‘বন্দে মাতরম’ গেয়েছে। পড়ুয়াদের আগে থেকেই গানটির ছয়টি স্তবকের পিডিএফ দেওয়া হয়েছিল। প্রার্থনার সময় সাউন্ড সিস্টেমে গানটি বাজানো হয় এবং ছাত্রছাত্রীরা তাতে কণ্ঠ মেলায়। এখনও মুখস্ত হয়নি। তাই অডিওর সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
প্রার্থনা সভায় হিন্দু ও মুসলিম, দুই সম্প্রদায়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাই অংশ নেন। জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’-এর আগে জাতীয় গান হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় সংগীতের আগে জাতীয় গানটির ছয়টি স্তবক গাওয়ার সুপারিশ করেছিল।
এর আগে মাদ্রাসাগুলিতে সকালের সমাবেশে জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি কবি গোলাম মোস্তফা রচিত ‘অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি’ গানটি গাওয়া হত। তবে সোমবারের প্রার্থনা সভায় শুধুমাত্র ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘জন গণ মন’ পরিবেশিত হয়েছে। একইভাবে রাজ্যের সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলিতেও গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর প্রথম দিন ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হয়েছে।