
কামদুনি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট। তবে মুক্তি পাওয়াপ্রাপ্তদের জন্য কয়েকটি শর্ত চাপিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার এবং কামদুনির প্রতিবাদীরা। সেই মামলার শুনানি ছিল আজ।
আজ মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি। যদিও কয়েকটি শর্ত দিয়েছে মুক্তিপ্রাপ্তদের জন্য। রাজারহাট থানার অনুমতি ছাড়া কোথাও যেতে পারবে না মুক্তিপ্রাপ্তরা। বাইরে যেতে গেলে যাওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে স্থানীয় থানার অনুমতি নিতে হবে। কোথায় যাচ্ছেন তাঁরা, সেই তথ্য দিতে হবে। ফিরে এসে দেখা করতে হবে থানায়। প্রতি মাসের প্রথম ও তৃতীয় সোমবার থানায় হাজিরা দিতে হবে। প্রত্যেকের পাসপোর্ট জমা দিতে হবে পুলিশের কাছে। প্রত্যেকের মোবাইল নম্বর থানায় জমা দিতে হবে। মোবাইলের তথ্যও থানায় জমা দিতে হবে। ঠিকানা বদল করলে আগাম জানাতে হবে।
৬ অক্টোবর কামদুনি ধর্ষণ-খুনের মামলায় রায় ঘোষণা করে কলকাতা হাইকোর্ট। নিম্ন আদালত ফাঁসির সাজা দিয়েছিল ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আমিন আলিকে। সেই সাজা খারিজ করে বেকসুর খালাসের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত সইফুল আলি এবং আনসার আলির সাজা বদলে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে বিচারপতিদের বেঞ্চ। ১০ বছর জেল খাটায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ইমানুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম এবং ভোলানাথ নস্করকেও মুক্তি দিয়েছে আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেয়।
কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্য সরকারের দাবি, এমন বড় অপরাধীরা বেকসুর খালাস পেলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। আর সেই কারণেই হাইকোর্টের এই রায়ের স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড থেকে বেকসুর খালাস পাওয়া ব্যক্তিকে বলতে বলা হয়েছে যে, কেন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। এর জন্য এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়।