
রবিবার একটা বড় মিটিং হতে চলেছে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে। সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন স্বয়ং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপর সোমবার এই সব সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। এমনটাই দাবি করলেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড নেতা ঋজু দত্ত।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমি যতটা জানি, সোমবার এই সব সাংসদ যাবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করার জন্য। রবিবার একটা বড় মিটিং হতে চলেছে। হয়তো সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। যতটা আমার কাছে খবর রয়েছে। বাকি দেখা যাবে।'
তাঁর মতে, এই বিদ্রোহী সাংসদরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেবে না। বরং বাইরে থেকে এনডিএ কে সমর্থন জানাবেন। আর তাতে 'সাপও মরল, লাঠিও ভাঙল না'-এর মতো লাভ হবে বিজেপির।
এই প্রসঙ্গে ঋজুর বক্তব্য, 'বিদ্রোহীদের তালিকায় মোটামুটি ২০ জন রয়েছেন এই তালিকায়। আর এটা আরও বাড়তেও পারে। এঁরা স্পষ্টভাবে বলেছে যে দেশের স্বার্থে এনডিএ-কে সাপোর্ট করবে। এটা বিজেপির জন্য খুব ভাল একটা বিষয়। এক্ষেত্রে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না। কিন্তু সমর্থনও মিলছে।'
আসলে বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের হাল খারাপ। বিধানসভায় বড় ভাঙন ধরেছে দলে। সেখানে ৬০ জন বিধায়ক বিদ্রোহী বলে খবর। তাঁরা মমতার নির্দেশ অমান্য করেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। পাশাপাশি এই সব বিধায়করাই দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। দলে থাকার সময় তাঁদের কোনও কথা শোনা হয়নি বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
ও দিকে লোকসভাতেও একই হাল তৃণমূলের। তৃণমূলের প্রতীকে জেতা মোট ২০ জন সাংসদ নিজেদের আলাদা ব্লক বলে ঘোষণা করেছেন। তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করবেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।
আর নতুন ব্লককে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্ষীয়ান নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেই সঙ্গে শতাব্দী রায় থেকে শুরু করে জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষরাও এই ব্লকেই যোগ দিয়েছেন বলে খবর মিলছে।
এছাড়া রাজ্যসভাতেও তৃণমূল ভাঙছে। সেখানে ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন সুখেন্দু শেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক। তাঁরাও মমতার দলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। এমনকী এনডিএ-কে সমর্থন করবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। আর এবার এই বিষয়টা নিয়েই মুখ খুললেন ঋজু। তিনি জানালেন রবিবারই বড় একটা বৈঠক করতে চলেছেন এই বিদ্রোহী ব্লকের নেতানেত্রীরা।