
বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লির উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর এই রাজধানী সফরকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে দিমাগি নকশালদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। তাই তিনি দিল্লি পুলিশ ও সেন্ট্রাল আইবি-কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিলেন।
এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, 'কী আনতে যাচ্ছেন? কী করতে যাচ্ছেন? দিমাগি নকশালদের সঙ্গে পরিকল্পনা করতে যাচ্ছেন। আজাদি স্লোগান যিনি দেন, তিনি কী করতে পারেন সবাই জানেন। আমি দিল্লি পুলিশকে বলব, সেন্ট্রাল আইবি-কে বলব ভাল করে নজর রাখুন। এর সঙ্গে আবার কোনও দেশ বিরোধী শক্তির মিটিং না হয়।'
এখানেই শেষ না করে শুভেন্দু দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন দিমাগি নকশালদের পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জামাতকে সঙ্গে নিয়ে চলছেন। শুভেন্দু বলেন, 'দিমাগি নকশালদের মূল মন্ত্রণাদাতা হয়েছেন তিনি। একহাতে জামাত। একহাতে দিমাগি নকশাল। দুইজনকে নিয়ে চলছেন।'
কেন দিল্লি গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ইস্যুতে ক্রমশ একজোট হচ্ছে বিরোধী ইন্ডিয়া শিবির। SIR নিয়ে এক তরফা সিদ্ধান্ত এবং যোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ইস্যুতে সরব হয়েছে বিরোধী জোট। তারা চাইছেন জ্ঞানেশ ইস্যুতেই বিজেপি সরকারের উপর চাপ বাড়াতে। এমন পরিস্থিতিতে আজ, মঙ্গলবার দিল্লি উড়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁরা ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে খবর মিলছে।
আসলে কয়েক দিন আগেই দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি বিস্ফোরক খবর সামনে আসে। এরপর জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। সেখানে দাবি করা হয়, ২ নির্বাচন কমিশনারকে অন্ধকারে রেখে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্ঞানেশ। তাতে ভুক্তভোগী হয়েছেন সাধারণ মানুষ। আর এই খবর সামনে আসার পরই কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে ইন্ডিয়া জোটের দলগুলি। কংগ্রেস, তৃণমূল, বাম, আপ সহ অধিকাংশ দলই জ্ঞানেশের অপসারণ চেয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বিজেপি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়াতে দিল্লিতে বৈঠকে বসতে চলেছে ইন্ডিয়া জোট। সূত্রের খবর, জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে কীভাবে বিজেপিকে চাপে ফেলা যায়, আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ানো যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা হবে।
এই বৈঠকে যোগ দিতেই দিল্লি গিয়েছে মমতা। তাঁর সঙ্গী হয়েছেন অভিষেক। আর মমতার এই সফরকে কটাক্ষ করলেন শুভেন্দু অধিকারী।