
'চারিদিকে অনেক ছারপোকা বেরিয়েছে, হালকাভাবে নেবেন না,' বললেন শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার কলকাতার উত্তীর্ণ সভাঘরে অশোক সিঙ্ঘলের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনটাই বললেন মুখ্য়মন্ত্রী। তাঁর কথায়, 'এই শক্তিকে একেবারে সমূলে উৎপাটিত করতে হবে।'
শুভেন্দুর অভিযোগ, পহেলগাঁওতে ধর্মের পরিচয় জানতে চেয়ে পর্যটকদের হত্যা করা হয়েছিল। তখন কেন প্রতিবাদ হয়নি? প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর। বলেন, 'চারিদিকে অনেক ছারপোকা আবার বেরিয়েছে, হালকাভাবে নেবেন না। যেদিন পহেলগাঁও থেকে বিতান অধিকারী আর সমীর গুহ দেও আসে, আমি এয়ারপোর্টে গেছিলাম। বিতান অধিকারীর স্ত্রী বাচ্চাটাকে আমার কোলে দিল। স্বামীকে মারল কেন জানেন? আমি বললাম, কী বলল? বলল, ওর স্ত্রীর সামনে, বাচ্চাটার সামনে ওর বাবাকে মেরেছে। বলল, 'আপনি কলমা পড়তে পারেন?' বিতান অধিকারী তো কলমা জানে না, মেরে দিল! সমীর ঘোষের স্ত্রী বলছে, 'আমার স্বামীকে ওরা মারত না, কিন্তু হাতে একটা আমরা বিপত্তারিণীর ডোর লাগাই না? বজরংবলীর তাগা পরি; বলছে ওইটা দেখে মেরে দিল!'
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'সেদিন এরা বেরোয়নি, আর অপারেশন সিঁদুরের দিন মিছিল করে বলে 'যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই! পাকিস্তানে জল বন্ধ হলো কেন, মোদীজি জবাব চাই, জবাব দাও!' এই শক্তিকে একেবারে সমূলে উৎপাটিত করতে হবে। মোদীজি তো ভারতবর্ষকে বিশ্বগুরু করে দিয়েছেন, কিন্তু ভিতরে যারা ঢুকে আছে, এদের বিরুদ্ধেও ঐক্যবদ্ধ, সঙ্ঘবদ্ধ হতে হবে। আর আমরা যারা প্রশাসনে আছি, আমাদের ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ করতে হবে।'
এদিন পশ্চিমবঙ্গে দ্রুত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা UCC চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, UCC-র পরে ‘লাভ জিহাদ’, ‘ল্যান্ড জিহাদ’ এবং ধর্ম পরিবর্তন ঠেকাতে কঠোর আইন আনা হবে।
এদিন হিন্দু ধর্ম, মঠ-মন্দির এবং সনাতনী পরম্পরা রক্ষার কথাও বলেন তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যে তীর্থক্ষেত্র সার্কিট তৈরির জন্য দু'বছরে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানান শুভেন্দু। দুর্গাপুজো, গঙ্গাসাগর মেলা এবং ধর্মীয় বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন তিনি।