
২০২১ সালের নির্বাচনের পর বিজেপি সহ বিরোধী দলের কর্মীদের উপর অকথ্য অত্যাচার করা হয়েছে বলে দাবি করে এসেছে বিজেপি। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের আক্রমণে ৩০০-এর বেশি কর্মী খুন হয়েছেন। হাজার হাজার সমর্থকের বাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। প্রচুর কর্মী ঘর ছাড়া ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে গেরুয়া বাহিনী। আর ক্ষমতায় এসে পুরনো সেই সব হামলার ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। ইতিমধ্যেই শতাধিক তদন্ত শুরু হয়েছে। নতুন করে হয়েছে এফআইআর। এমনকী পুরনো ফাইলও খোলা হয়েছে।
বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হামলা নিয়ে এবার কড়া অ্যাকশন নিচ্ছে বিজেপি সরকার। সেই মতো পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তারপরই তদন্ত শুরু হয়েছে ৪৫৮টি ক্ষেত্রে। শুধু তাই নয়, নয়া এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে ১৮১টি। এছাড়া ৫৯টি বন্ধ হয়ে যাওয়া কেস খোলা হয়েছে। আর এই সব ক্ষেত্রেই তৎকালীন বিরোধী দলের কর্মীরা বিচার পাবে বলে দাবি করেছে সরকারি সূত্র।
কী দাবি বিজেপির?
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর ভোট হয়েছে। তারপরই সামনে এসেছে হিংসার খবর। বিরোধী দলের কর্মী খুন, বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া, বাড়ি ভাঙচুর করা, ভয়ানক মার থেকে শুরু করে ভুয়ো পুলিশ কেস দেওয়ার মতো অভিযোগ ওঠে। এমনকী বিরোধী দলের প্রচুর কর্মী বাড়ি ছাড়াও হতে হয়। আর এমনটাই ২০২১ সালের পর বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে ঘটেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
ভারতীয় জনতা পার্টির দাবি, সেবার ভোটের পর প্রায় ৩০০-এর বেশি কর্মীকে খুন করা হয়েছিল। ঘর ছাড়া ছিলেন হাজার হাজার কর্মী। পাশাপাশি মারধর এবং বাড়ি ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটেছে অসংখ্য। আর বিজেপি প্রথম থেকেই এই বিষয়টা নিয়ে সোচ্চার ছিল। তারা দাবি করেছিল, ক্ষমতায় এলে এই সবের বিচার হবে। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভন্দু অধিকারীও এই বিষয়টা নিয়ে হুঙ্কার দিয়ে রেখেছিলেন। আর মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পরই সেই সময়ের আক্রমণের বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন নিলেন শুভন্দু।
যদিও মাথায় রাখতে হবে, ২০২৬ সালের ভোটের পর তাদের কর্মীদের উপর আক্রমণ হচ্ছে বলে দাবি করে তৃণমূল কংগ্রেস। এই বিষয়টা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার হন দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী বিধানসভার স্পিকারের শপথ গ্রহণের দিন এই নিয়ে কথা তোলেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, ভোট পরবর্তী সময় অনেক তৃণমূল কর্মীদের মারধর করা হচ্ছে। তারা বাড়ি ছাড়া। তাদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করুক নয়া সরকার।
যদিও শোভনদেবের এই দাবি শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানিয়ে দেন, ভোট পরবর্তী হিংসা এবার প্রায় হয়নি। বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা এই কাজ করে না।