Advertisement

Suvendu Adhikari Govt: শুভেন্দুর সরকারের ১৫০ দিন, বাংলায় ঠিক কী কী পরিবর্তন ঘটল?

বাংলায় ক্ষমতার বদল হয়ে গিয়েছে ১৫০ দিন। এই পাঁচ মাসে ঠিক কোন কোন 'আসল পরিবর্তন'-এর স্বাদ পেল পশ্চিমবঙ্গবাসী? জেনে নেওয়া যাক।

শুভেন্দুর সরকারের ১৫০ দিন, বাংলায় ঠিক কী কী পরিবর্তন এল?- ফাইল ছবি (সৌজন্যে - Getty)শুভেন্দুর সরকারের ১৫০ দিন, বাংলায় ঠিক কী কী পরিবর্তন এল?- ফাইল ছবি (সৌজন্যে - Getty)
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 05 Oct 2026,
  • अपडेटेड 9:55 AM IST
  • ৪ মে বাংলা সাক্ষী থেকেছে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় পালাবদলের।
  • ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারকে উপড়ে ফেলে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি।
  • বাংলায় শাসক তো বদল হল, কিন্তু শাসন সংস্কৃতিতে কোনও পরিবর্তন এল কি?

৪ মে বাংলা সাক্ষী থেকেছে এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় পালাবদলের। ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারকে উপড়ে ফেলে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। 'এবার আসল পরিবর্তন'-এর ডাক দিয়ে ক্ষমতায় আসার পর শুভেন্দু সরকারের কেটে গিয়েছে ১৫০ দিন। এই ১৫০ দিনে বাংলায় ঠিক কী কী বদল এল? ১৫০ দিন পর যে প্রশ্ন বিশেষজ্ঞরা করছেন, তা হল বাংলায় শাসক তো বদল হল, কিন্তু শাসন সংস্কৃতিতে কোনও পরিবর্তন এল কি?

বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১৫০ দিনে বাংলায় পরিবর্তন আনার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা রূপ নিতে শুরু করেছে। তার প্রমাণ হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে যথেষ্ট উপাদানও মজুদ রয়েছে। রাজ্যসভার সাংসদ ও পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি রাহুল সিনহা ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটালকে বলেছেন, "পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর যত দ্রুত কাজ করেছে, অন্য কোনো প্রশাসন ততটা দ্রুত কাজ করেনি।"

ঠিক কী কী বদল এল?

বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের তথাকথিত কাট মানির সংস্কৃতি, সিন্ডিকেট, আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্প এবং গুন্ডামির অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নবান্নে এন্ট্রি নিয়েছিল। পরিবর্তনের প্রথম পরিবর্তন, যা সবচেয়ে বেশি নজরে আসছে তা হল, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের কল্যাণমূলক ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানো এবং বাংলায় আগে আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ।

অন্নপূর্ণা যোজনা চলছে

অন্নপূর্ণা যোজনা হল সবচেয়ে জ্বলন্ত উদাহরণ। এই স্কিমটি তৃণমূল সরকারের প্রধান কর্মসূচি লক্ষ্মীর ভান্ডারকে বদলে চালু করা হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনায়, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী যোগ্য মহিলারা ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি)-এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা পাচ্ছেন। সরকার দাবি করেছে, সেপ্টেম্বর নাগাদ প্রায় দেড় কোটি মহিলা চতুর্থ কিস্তি পেয়েছেন। তবে এখনও বেশ কিছু যোগ্য প্রাপক টাকা পাননি বলে দাবি করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ এগোচ্ছে?

রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসেই কেন্দ্রীয় সরকারের সব স্কিম রাজ্যে পুরোদমে চালু করার বার্তা দিয়েছে। সবার আগে  চিংড়িহাটা মোড়ের কাঠে মেট্রোজট দূর করে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বর্ডারে BSF-কে জমিও দেওয়া হয় দ্রুত। এছাড়াও, সূর্য ঘর যোজনা থেকে শুরু করে সবকটি কেন্দ্রীয় প্রকল্পও রাজ্যে চালু করা হচ্ছে।

Advertisement

বিজেপির সোনার বাংলা প্রতিশ্রুতি, বিনিয়োগ আসছে

সেপ্টেম্বর মাসের হিসেব বলছে,রাজ্য সরকার ৩৩টি শিল্প প্রকল্পের জন্য জমি বরাদ্দ করেছে। সরকারের অনুমান অনুযায়ী, এই প্রকল্পগুলি থেকে প্রায় ৬০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে এবং ৬২,০০০ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী দুর্গাপূজার আগেই একটি নতুন শিল্পভূমি নীতির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন, যার আওতায় থাকবে ভূমি  সংযুক্তিকরণ, সরাসরি ক্রয়ের ব্যবস্থাও। আমুলের ৭০০ কোটি টাকার দুগ্ধ প্রকল্প এবং ডানকুনিতে লাক্স কোজির ৬০০ কোটি টাকার সম্প্রসারণ বাংলায় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ হয়েছে।

পরিকাঠামো খাতেও জোর দেওয়া হয়েছে

পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকেও জোরালো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। বেশ কিছু নতুন প্রকল্প, যার মধ্যে একটি প্রস্তাবিত ওয়াটার মেট্রো, দুটি আন্তঃনগর মেট্রো পরিষেবা, সম্প্রসারিত বাস নেটওয়ার্ক এবং কল্যাণীতে একটি গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়াও, বেহালা এয়ারপোর্ট, জোকা-এসপ্ল্যানেড, নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট এবং কবি সুভাষ-বারাসাত করিডোরের মতো প্রকল্প নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এগুলো সময় সাপেক্ষ।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আদৌ বদল এল?

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কিন্তু বিজপি সরকার প্রথম থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটালকে জানিয়েছেন, সরকার আইন-শৃঙ্খলা "সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে" এনেছে এবং তোলাবাজি (চাঁদাবাজি) বন্ধ করেছে। তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগগুলোর ওপর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ আধিকারিক ও সরকারি কর্মচারীদেরও তদন্ত করা হচ্ছে বা গ্রেফতার করা হচ্ছে। 

কিন্তু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা, বিরোধী দলগুলির উপর আক্রমণের অভিযোগ শান্তি শৃঙ্খলার উপর প্রশ্ন তুলছে। ৪ মে থেকে বিরোধী দলগুলোর কার্যালয়গুলোতে বারবার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যজুড়ে টিএমসি, সিপিআই(এম), সিপিএম এবং কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়গুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজেপির তৃণমূলীকরণ: অস্বস্তিকর প্রশ্ন হয়ে উঠেছে

বিজেপির অন্দরেই গত কয়েক মাসে বিজেপির তৃণমূলীকরণ নিয়ে প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে বলে দাবি। সেপ্টেম্বরে ইন্ডিয়া টুডে ম্যাগাজিনের রিপোর্টে বিজেপি কর্মীদের তোলা তোলার ঘটনা তুলে ধরা হয়।  এমনকি নির্বাচিত বিধায়করাও স্থানীয় কর্মীদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে বঙ্গ বিজেপি 'বিজেপির তৃণমূলীকরণ' তত্ত্বকে পাত্তা দিতে নারাজ। রাহুল সিনহা বলছেন, "বিজেপির তৃণমূলীকরণ বলে কিছু হয়নি। যারা TMC ছাড়তে চেয়েছিল, তাদের জন্য আমরা ৪ মে-তেই দরজা বন্ধ করে দিয়েছি। দরজা বন্ধই আছে, এবং বন্ধই থাকবে।"


 

Read more!
Advertisement
Advertisement