
'আরে ভাই ভাইপো ভাইপো করছেন কেন? সময় হয়নি। সময় হয়নি। যখন সময় হবে, তখন দেখে নেবেন, দেখে নেবেন। এই সরকার শাহজাহানকেও ছাড়েনি। পুষ্পা যে জাহাঙ্গির, তাকেও ছাড়েনি।' আজ এভাবেই মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেই আক্রমণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
আজ উত্তরবঙ্গে 'গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও' মহামিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর সভায় বলতে উঠে অভিষেককে আক্রমণ করেন শুভেন্দু।
মাথায় রাখতে হবে, ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক মামলা হয়েছে অভিষেকের নামে। তাঁকে ডেকেছে পুলিশ। তিনি হাজিরাও দিয়েছেন। তবে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই বিষয়টা নিয়ে বিজেপি নেতা ও কর্মীদের একাংশের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, এটা বুঝতে পারছে দল। যেই কারণে আজ সভাস্থল থেকে অভিষেকের নাম না করেই বার্তা দেওয়া হল। শুভেন্দু জানালেন, যখন সময় আসবে, তখন দেখে নেওয়া হবে।
এরপরই তিনি দাবি করেন, ক্ষমতা দখলের পর তিনবার পরীক্ষায় বসেছে নতুন সরকার। ফলতা, নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে বিপুল ভোটে জিতেছে বিজেপি। আর সেই ফলই কলকাতা, হাওড়ার পুরভোটেও হবে বলে মনে করেন তিনি। সেই ট্রেন্ড মেনে পরে শিলিগুড়ি পুরসভার ভোটেও বিজেপি জিতবে।
শুভেন্দুর মতে, দিল্লিতে হেরোরা এক জায়গায় হয়েছে। বিরোধীরা চায় ভারতকে বাংলাদেশের মতো করে তুলতে। দিমাগি নকশাল, মাওবাদীরা ভারতকে টুকরো টুকরো করে অস্থিরতা তৈরি করতে চায়। তাই তাদের থেকে মানুষকে দূরে থাকতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও দাবি করেন, ভারতে এসব চলবে না। ক্ষমতায় থাকতে গেলে দেশে আসতে হবে। নরেন্দ্র মোদী যতক্ষণ নেতৃত্ব দিচ্ছেন, ততক্ষণ কোনও কিছুতেই জেতা যাবে না।
এই সময়ই করোনার সময়ের কথা তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কোভিড টিকা বেরিয়েছিল। তাতেই ভারতীয়রা বেঁচেছে।
এরপর রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়েও বলেন শুভেন্দু। তিনি জানান, রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ লাগল। সেখানে ৩০ হাজার ভারতীয় পড়ুয়া আটকে পড়ল। এরপরই মোদী জেলেনেস্কি ও পুতিনের সঙ্গে কথা বলেন। এরপরই ১৪ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধ বন্ধ থাকে। দুই পক্ষই তাতে সাড়া দিয়ে যুদ্ধ রাখে বলে দাবি করেন তিনি।