
তারাতলা বিপর্যয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। সর্বশেষ জানা গেছে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯ জন মৃত। আহতদের মধ্যে ১৫ জন স্থিতিশীল। ১ জন অতিরিক্ত সঙ্কটজনক (রেড জোনে) অবস্থায় রয়েছেন এবং ৪ জন সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছেন। নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়েছে। জখমদের ১ লক্ষ টাকা করে অর্থসাহায্য দেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "যারা আহত ছিলেন কথা বলার অবস্থায় তাদের থেকে দুর্ঘটনার কথা বিস্তারিত জেনেছি। এখনও পর্যন্ত ২৯ জনকে উদ্ধার। ৯ জন মৃত। ২০ জন চিকিৎসাধীন। গুরুতর রয়েছেন ৪। ১৫ জন স্থিতিশীল। আশঙ্কাজনক একজন। উদ্ধারকাজ যারা করছেন NDRF, আর্মি। তারা জানিয়েছেন, আরও কয়েকজন আটকে রয়েছেন। আমরা ঘোষণা করছি মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ঘোষণা। গুরুতর আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করছি। যদিও মৃত্যুর কোনও ক্ষতিপূরণ হয় না।"
শুভেন্দু বলেন, "পরিবারের পাশে থাকব। যারা আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। সরকার তাঁদের পাশে রয়েছেন।"
তারাতলায় গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ও জখমদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। এই ঘটনায় তিনি শোকপ্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশনে আগের সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করে তিনি বলেন, "আপনাদের পাপেপর ফল। সব জায়গায় টাকা নিয়ে কলকাতাকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছেন। গার্ডেনরিচে কখনও এনডিআরএফ, আর্মিকে ডাকেননি। গার্ডেনরিচে ১৪ জন চাপা পড়ে মারা গিয়েছিল, একজনকেও উদ্ধার করেত পারেননি। আপনার প্রাক্তন মেয়রের সই আছে এতে। কাউকে ছাড়া হবে না। ভারী বিম কাটার কোনও মেশিন রাখেননি। কেন এত ক্ষতি করে দিয়ে গেছেন কলকাতার?"
এই ঘটনায় ডেভেলপার আসগর হুসেনের নাম করেন। বলেন, 'আমি চাইব তিনি জীবিত বেরোক।' যদিও সূত্রের খবর, গোডাউনে লোহার ছাদ পড়ে মারা গেছেন তিনিও। এদিন জনৈক কালীর নাম করেন। যিনি প্রাক্তন মেয়রের আপ্তসহায়ক বলে জানা গেছে। কালী না বললে কলকাতা কর্পোরেশনে কোনও প্ল্যান হয় না বলে দাবি করেন শুভেন্দু। তিনিই বাইপাসের ধারে তৃণমূল ভবনে পাঠান। এনার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে বলেও জানান।