
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দুর্নীতি এবং ভোট-পরবর্তী হিংসা ইস্যুতে সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা। তিনি দাবি করেন, 'এবারের নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করেছে যে পশ্চিমবঙ্গের সনাতনী সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে রাজ্যে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব।'
বাংলার সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাহুল সিনহা বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছিল যে মুসলিম ভোট ছাড়া বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল সম্ভব নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে।'
তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, 'নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাৎ, রাজ্যের সর্বস্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর কথায়, এই দুর্নীতির শিকড় কালীঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি খুব শীঘ্রই প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ খুলে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।'
ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি সাংসদ বলেন, 'বিজেপি শান্তি ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই রাজ্যে আরও বড় সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।' তিনি অভিযোগ করেন, 'বহু বিজেপি কর্মীর উপর হামলা হয়েছে, বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে এবং অনেককে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে।' এই সমস্ত ঘটনার বিচার আইনের মাধ্যমে চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
রাজ্যে অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাস পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে রাহুল সিনহা দাবি করেন, 'পশ্চিমবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে পশ্চিম বাংলাদেশ-এ পরিণত করার চেষ্টা চলছে। বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের মাধ্যমে রাজ্যের জনসংখ্যার ভারসাম্য বদলে দেওয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধে বিজেপি আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।
এছাড়াও তিনি রাজ্যের সর্বত্র তোলাবাজি ও কাটমানির সংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, 'অটো স্ট্যান্ড থেকে টোটো স্ট্যান্ড, সব জায়গাতেই দুর্নীতির জাল ছড়িয়ে রয়েছে।' বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে এই চক্র সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হবে এবং কোনও প্রভাবশালী নেতা বা স্থানীয় মদতদাতাকেও রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, 'দীর্ঘদিন ধরে পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক চাপে বহু অপরাধী গ্রেফতার হয়নি।' তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।