
সুন্দরবনের জঙ্গলে নদী, খাঁড়িতে মাছ কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ক্রমাগত বাঘের হানায় মৃত্যু হচ্ছে মৎস্যজীবীদের। ফের একবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবার মাছ ধরতে গিয়ে কলস দ্বীপের কাছে বাঘের আক্রমণে মৃত্যু হল এক মৎস্যজীবীর। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যায়। মৃত যুবকের নাম শঙ্কর ভক্ত। তিনি সুন্দরবনের জি প্লটের বাসিন্দা।
সূত্রের খবর,সাতজনের একটি মৎস্যজীবী দল নৌকা করে মাছ ধরতে যায় কলস দ্বীপের কাছে। সন্ধ্যায় নৌকার উপরে তারা খেতে বসেছিলেন, সেই সময় পেছন থেকে বাঘ এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে শঙ্করের ঘাড়ে। এরপর বাঘ টানতে টানতে জঙ্গলে দিকে নিয়ে যায় তাঁকে। এই ঘটনায় সঙ্গে থাকা অন্যান্য মৎস্যজীবীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অবশেষে বাঘের সাথে লড়াই করে ওই মৃত মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার করে আনেন অন্যান্য মৎসজীবীরা।
সুন্দরবনের বনবিবির বাহনের হামলায় প্রতিবছর বেঘোরে বহু মৎস্যজীবীর প্রাণ যায়। মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে প্রাণ হারাতে হয় অসহায় মানুষগুলিকে। গত দোসরা অক্টোবর এভাবেই বাঘের হানায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন এক মৎসজীবী। গোসাবার সাতজেলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এর এমলী বাড়ি থেকে তিনজন মাছ ধরতে গিয়েছিলেন গৌড় মিস্ত্রি আর তাঁর আর দুই সঙ্গী। পিরখালী জঙ্গলের কাছে তাঁরা যখন মাছ ধরছিলেন তখন একটি বাঘ আচমকা জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে গৌরের উপর আক্রমণ করে। গৌড়ের সঙ্গে থাকা দুই সঙ্গী বাঘের সাথে লড়াই করে উদ্ধার করে তাঁকে। এর দু'দিন পরেই ফের সুন্দরবনে বাঘের হামলার ঘটনা ঘটে। মরিচঝাঁপি জঙ্গল লাগোয়া বড় চিলমারি খালে কাঁকড়া ধরার সময় বাঘের কবলে পড়েন সেলিম মোল্লা(৩১) নামে এক মৎস্যজীবী। নৌকায় বসে কাঁকড়া ধরার সময় তাঁর ঘাড়ে লাফিয়ে পড়ে বাঘ। সেলিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা সম্ভব হয়নি। মাঝ পথেই মৃত্যু হয় ওই মৎস্যজীবীর।