
'সেটিং করছিস? বল, রাতের অন্ধকারে কীসের ডিল করছিস?'একটি বাড়ির ভিতর বৈঠক, সেখানে একই টেবিলে তৃণমূলের এক নেতার সঙ্গে BJP-র নেতারা, আর আচমকাই সেই বৈঠকের খবর পেয়ে বাড়ির বাইরে জড়ো হয়ে গেলেন এলাকার মানুষ। তারপর দরজা ঘিরে বিক্ষোভ, ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ, পরিস্থিতি সামলাতে ছুটে এল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত যাঁদের ঘিরে এত উত্তেজনা, তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যেতে হল পুলিশকে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের কেন্দুয়া গ্রামের এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই, রাতের অন্ধকারে আসলে কী নিয়ে বৈঠক চলছিল? সত্যিই কি দলবদল নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল? নাকি এর পিছনে রয়েছে হাড়োয়ার হাজার হাজার বিঘা মেছোভেড়ি ঘিরে কোটি টাকার হিসেব?
ঘটনাটি বুধবার, ২৬ অগাস্ট গভীর রাতের। ঘটনাস্থল উত্তর ২৪ পরগনার মাটিয়া থানার চৈতা গ্রাম পঞ্চায়েতের কেন্দুয়া এলাকা। স্থানীয় সূত্রে যে নামগুলো সামনে এসেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল। তিনি মিনাখাঁর তৃণমূল বিধায়ক ঊষারানি মণ্ডলের স্বামী এবং জেলা পরিষদের তৃণমূল নেতা। তাঁর সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন BJP নেতা সঞ্জীব সরকার এবং হাড়োয়ার BJP নেতা তথা বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি রাজেন্দ্র সাহা।
বৈঠকের আনুষ্ঠানিক কারণ কী ছিল, সেটা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এটা কোনও সাধারণ বৈঠক ছিল না। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূল নেতা মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল এবং BJP নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছিল দলবদল নিয়ে।
আর এই অভিযোগ সামনে আসতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, যদি সবকিছু স্বচ্ছ হয়, তাহলে এত রাতে কেন বৈঠক? কেন প্রকাশ্যে নয়? কেন বাড়ির ভিতরে? আর কেন সেখানে একইসঙ্গে তৃণমূল ও BJP-র নেতারা উপস্থিত?
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈঠকের খবর পাওয়ার পর তাঁরা সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন। এরপর বৈঠকে থাকা নেতাদের ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডলকে ঘিরে ধাক্কাধাক্কিও হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকলে খবর যায় মাটিয়া থানায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাদেরও ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়রা। যাঁদের নিয়ে এতক্ষণ ধরে বিক্ষোভ চলছিল, তাঁদের পুলিশের হাতে ছেড়ে দিতেও প্রথমে রাজি ছিলেন না বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই অঞ্চলে প্রায় দশ হাজার বিঘা মেছোভেড়ি রয়েছে। এর দখল এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এর আগেও এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি BJP-র অন্দরেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা সামনে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তৃণমূল আমলে বিঘা প্রতি ৫ হাজার টাকা করে কাটমানি নেওয়া হত। BJP ক্ষমতায় আসার পর সেই টাকার ভাগাভাগি নিয়ে নতুন করে ‘সেটিং’ করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মৃত্যুঞ্জয় মণ্ডল এবং তাঁর অনুগামীরা BJP-তে যাওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করছিলেন।
রিপোর্টার: তপন মণ্ডল