
পশ্চিমবঙ্গের বাদুড়িয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতার বাড়ির পাশের পাটখেত থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ ইতিমধ্যেই ২.২৪ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এখনও টাকার গণনা চলছে এবং তদন্তকারীদের অনুমান, সেই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গভীর রাতে একটি তৃণমূল কার্যালয় থেকে ভ্যানযোগে নানা সামগ্রী সরানো হচ্ছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। এরপর পুলিশ বাদুড়িয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা একটি খামারবাড়ি ও দলীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায়। সেখানে ত্রাণের জন্য আনা প্রায় চার হাজার ত্রিপল উদ্ধার হয়। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ নগদ টাকারও হদিস মেলে।
তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে দীপঙ্কর ভট্টাচার্য গ্রেফতার হওয়ার পর। প্রথমে তিনি পুলিশের চোখ এড়িয়ে পালিয়ে বেড়ালেও পরে একটি হোটেল থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আদালতে তোলার পর পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি নাকি নিজের বাড়ির পেছনের পাটক্ষেতে পুঁতে রাখা নগদের কথা জানান।
এরপরই শুরু হয় বিশাল তল্লাশি অভিযান। ড্রোন ক্যামেরা, স্নিফার ডগ এবং পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলে খোঁড়াখুঁড়ি। অবশেষে মাটির নীচ থেকে উদ্ধার হয় ট্রলি ব্যাগ ও বস্তাভর্তি ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল। সঙ্গে কিছু সোনার সামগ্রীও পাওয়া যায় বলে জানা গিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ কর্মীরা কাঁধে করে টাকার বস্তা মাঠ থেকে বের করে আনছেন।
এত বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, চাঁদাবাজি, কাটমানি এবং আবাসন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের মাধ্যমেই এই বিপুল অর্থ জমা করা হয়েছিল। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনাকে ঘিরে ফের উঠে এসেছে রাজ্যের দুর্নীতির প্রসঙ্গ। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা ও দুর্নীতির অভিযোগ একের পর এক সামনে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নেতা-কাউন্সিলরের গ্রেফতারি এবং দলত্যাগের ঘটনায় চাপ আরও বেড়েছে শাসকদলের ওপর।