
'যিনি আমাকে বলতে দেননি, তিনি গণতন্ত্র শেখাবেন, সেটা আমি শুনব না।' আজ বিধানসভার ওরিয়েন্টেশন থেকে ওয়াকআউট করে ঠিক এমনটাই বললেন মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। পাশাপাশি তিনি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার ভূমিকা নিয়েও তীব্র আপত্তি তোলেন। সেই সঙ্গে তৃণমূল ভাঙানোর প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি।
আসলে শুক্রবার কলকাতার নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে পশ্চিমবঙ্গ বিধায়কদের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজুজু এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অনেক বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। আর সেই অনুষ্ঠান চলাকালীনই মাঝপথে ওয়াকআউট করে যান কুণাল।
তবে কালীঘাট তৃণমূলের এই বিধায়ক অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি এই অনুষ্ঠান বয়কট করেননি। বরং কারও কারও বক্তব্য তাঁর পছন্দ নয়। তাই তিনি বেরিয়ে এসেছেন।
ওয়াকআউট করার পর বিষয়টা নিয়ে মুখ খোলেন কুণাল। তিনি জানান, এই অনুষ্ঠানে আসাটা তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে তিনি কার বক্তব্য শুনবেন, সেটা সম্পূর্ণ তাঁর নিজের ইচ্ছে। এরপরই লোকসভা এবং বিধানসভার স্পিকারের উপর ক্ষোভ উগড়ে দেন কুণাল।
তিনি অভিযোগ করেন, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন। তাই তাঁর বক্তব্য় শোনার কোনও প্রয়োজন নেই।
এছাড়া এ দিন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও সরব হতে দেখা যায় কুণালকে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের কথায় চলছে নির্বাচন কমিশন। এই সংস্থা নিজের নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে পারছে না।
এখানেই শেষ নয়, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকেও আক্রমণ করেন কুণাল। তিনি বলেন, 'আমি ব্যক্তিগতভাবে বিধানসভার স্পিকারকে সম্মান করি। তবে যিনি আমাকে বলতে দেননি, তিনি গণতন্ত্র শেখাবেন, সেটা আমি শুনব না।'
সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তিনি বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের থেকে সবটা শিখে নেবেন। তাঁর আর কারও কাছ থেকে শেখার কিছু নেই।
এরপর ফেসবুকেও বিষয়টা নিয়ে পোস্ট করেন কুণাল। সেখানে তিনি লেখেন, 'আমার কর্তব্য ছিল আজ বিধানসভার অধ্যক্ষ আয়োজিত বিধায়কদের কর্মশালায় উপস্থিত থাকা। বন্দেমাতরম, জনগণমন, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন পর্যন্ত ছিলাম। আমি লোকসভা, বিধানসভার অধ্যক্ষ, মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর চেয়ারকে সম্মান করি। কিন্তু এটা আমার সিদ্ধান্ত যে আমি কিছু ব্যক্তির বক্তব্য শুনব কি না। আমি ঠিক করলাম, শুনব না। এটা আমার সিদ্ধান্ত, বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে বেরিয়ে এসেছি।
কারণ, লোকসভার অধ্যক্ষ সম্মানীয়। কিন্তু তিনি তৃণমূলের দল ভাঙানোর চেষ্টার সাংসদদের বরখাস্ত করার বদলে ছাড় দিচ্ছেন। রাজ্যের অধ্যক্ষকে সম্মান করি, কিন্তু তিনি নিরপেক্ষ কাজ করছেন বলে অনুভব করছি না। আগের দিন আমাকে অন্যায়ভাবে বলতে দেওয়া হয়নি। আমি ওঁদের মুখে নীতিকথা কথা শুনব না।'