
বিদ্রোহী তৃণমূলের ঝড়ে টালমাটাল তৃণমূল। এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হন বিধায়ক কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, অশোক দেবরা। বুধবার নবান্নে বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক বৈঠক হয়। তাতেই হাজির হন তাঁরা। একদিকে ৫৮টি বিধায়ক নিয়ে ছিটকে যাওয়া নব্য তৃণমূল অন্যদিকে মমতার ঘনিষ্ঠ সৈনিকদের সহযোগে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। জল্পনা চলছিল তবে কি নব্য তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতের দলেই ঢুকছেন কুণালরা? বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হল? বৈঠক শেষে সব খোলসা করলেন কুণাল। যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটালেন।
কুণাল সাফ জানান, বেলেঘাটার সার্বিক উন্নতি নিয়ে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল বলেন, "হকার উচ্ছেদ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। এলাকার সমস্যা উল্লেখ করেছি। হাসপাতাল সংক্রান্ত উন্নয়ন নিয়ে কথা হয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। বিরোধীদের কথাও যাতে পুলিশ শোনে সেই কথা বলেছি। বিরোধী বিধায়কদের ফোন ধরতে বলেছেন।" বিরোধীদের ধরপাকড় নিয়েও অভিযোগ করেন কুণাল।
বিদ্রোহী তৃণমূল দিয়ে চর্চার মাঝে কুণালের উপস্থিতি নিয়ে চর্চা শুরু হয়। তবে কুণাল স্পষ্ট করে দেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হয়ে এসেছি। বিরোধী হয়ে এসেছি। ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে প্রচার করে হারার পর "
প্রসঙ্গত, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে প্রায় ৫৮ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক স্বাক্ষর করে দিয়েছেন। মমতার আস্থাভাজনদের একে একে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যোগদানে কার্যত পর্যুদস্ত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গলবার যখন ওয়াই চ্যানেলে ধর্না দিচ্ছিলেন, তাঁর পাশে দেখা গিয়েছিল কুণাল, নয়না, ফিরহাদকে। ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁদের উপস্থিতি বড় চমক। দলের একাধিক সমালোচনা করার পরও কুণাল ঘোষ দিদির পাশে থাকার কথা বলেছেন।