
ভোটে হারের এক মাসের মাথায় ঘর ভেঙেছে তৃণমূলের। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেতা করে গঠিত হয়েছে বিদ্রোহী নব তৃণমূল। নয়া তৃণমূলীদের 'আবর্জনা' বলে দেগে দিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। বুধবার সন্ধেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে বৈঠক থেকে বেরিয়ে দল বিরোধীদের নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি।
ঋতব্রত প্রসঙ্গে মদন প্রশ্ন তোলেন, ওকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাহলে যে তৃণমূল দলটাতেই নেই, তিনি কীভাবে তৃণমূলের বিরোধীদলীয় নেতা (LoP) বলে দাবি করতে পারেন? এটি একেবারেই বেআইনি কাজ।
তাঁর আরও বক্তব্য, "তৃণমূল রাজনৈতিক ও আইনি উভয়ভাবেই এর বিরুদ্ধে লড়বে। আবর্জনাদের দল ছাড়ার জন্য তৃণমূলের দরজা খুলে দিয়েছে।"
এও বলেন, "বিদ্রোহী নেতাদের সাহস নেই, তাই তারা প্রকাশ্যে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে না। বরং তৃণমূলের নাম ব্যবহার করে অন্তর্ঘাত করছে।" তাঁর আরও দাবি, "ঋতব্রত বিজেপির নির্দেশে কাজ করছেন। দলীয় কর্মীদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে।"
এদিকে মমতার কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠক শেষে ঋতব্রতকে তীব্র আক্রমণ করেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, "একজন লোক যাঁর নিজেকে রাজনীতিবিদ বলার যোগ্যতাও নেই তিনি আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করছেন। কতগুলো আবর্জনাকে নিয়ে দল ভরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মমতাদির প্রতীকে জিতে এখন বড় বড় কথা। ও তো এমন একজন যিনি দুটো দল থেকে লাথি খেয়েছেন। যদি অতই ক্ষমতা থাকে তাহলে তৃণমূলের হয়ে যে আসন থেকে জিতেছেন সেটি ছেড়ে দিয়ে দেখান। তারপর দেখব কত মুরোদ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিছু বলার যোগ্যতাই ওর নেই।"
এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে ঋতব্রত দাবি করেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন লড়াকু নেত্রী। তাঁকে আমরা শ্রদ্ধা করি। আমরা চাই তিনি আমেদের দলের পরামর্শদাতা হিসেবে থাকুন। প্রয়োজনে পরামর্শ দিন। আমরা তাঁকে সম্মান করব। তিনি ডাকলে বৈঠকে যাব।'
অভিষেকের বিরোধিতায় তিনি বলেন, 'অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় কেউ নয়। তাঁর বিধানসভায় কোনও ভূমিকা নেই। তিনি কেউ নন। তাঁর তো সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। সেজন্য তো তাঁকে চোর চোর শুনতে হয়েছে। মার খেতে হয়েছে। উনি কোনও কাজ একসঙ্গে করতে চান না। সবেতেই একা। তাঁর কোনও গুরুত্ব নেই।'
প্রসঙ্গত, দলবিরোধী কাজের জন্য আগেই তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়ছেন ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায় এবং সন্দীপন সাহা। এদিকে তাঁরই নেতৃত্বে এদিন স্পিকারের কাছে যান তৃণমূলের বিধায়করা। এরপর ৫৮ জন বিধায়কের সম্মতিতে পরিষদীয় রীতিনীতি মেনে তাঁকে বিরোধী দলনেতার আসনে বসানো হয়।