
ফের ভাঙল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। এবার রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক ইস্তফা দিয়েছেন বলে খবর।
মাথায় রাখতে হবে, এর আগে তৃণমূলের আরও দুই রাজ্যসভার সাংসদ— সুখেন্দু শেখর রায় এবং সুস্মিতা দেব রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। এবার সেই দলেই নাম লেখালেন প্রকাশ। তিনিও পদত্যাগ করলেন। আর আজ প্রকাশ চিক বরাইকের ইস্তফার পর রাজ্যসভায় টিএমসির সাংসদ সংখ্যা কমে ১০-এ দাঁড়াল। আর এই সংখ্যাটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথায় চিন্তা বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট। এখন দেখার তিনি দলের এই ভাঙন কোনওভাবে রুখতে পারেন কি না!
সূত্রের খবর, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তৃণমূল থেকে আরও তিনজন রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করতে পারেন। তবে তাঁরা কারা, সেটা এখনও জানা যায়নি। এমনকী কোনও রাজ্যসভার সাংসদ এই বিষয়ে মুখও খোলেননি। তাই এখন অপেক্ষা করা ছাড়া সত্যিই কোনও গতি নেই।
এই প্রসঙ্গে বলি, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের শনির দশা যাচ্ছে না। একের পর এক বিধায়ক এবং সাংসদ দলত্যাগী হচ্ছেন। এই যেমন বিধানসভার ৬০ জন তৃণমূল বিধায়ক নিজেদের আলাদা করে নিয়েছেন। তাঁরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করে জোট বেঁধেছেন। ও দিকে আবার লোকসভাতেও দলে ভাঙন স্পষ্ট। ইতিমধ্যেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে বিদ্রোহী হয়েছেন ২০ জন সাংসদ। তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেছেন। এমনকী আলাদা বসার জন্য আবেদন করেছেন।
আর এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যসভাতেও ভাঙতে শুরু করেছে তৃণমূল। প্রথমে দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে পদত্যাগ করেন সুখেন্দু। তারপর অসমের সুস্মিতা দেবও সেই একই পথে হাঁটেন। তিনিও করেন পদত্যাগ। এরপর জল্পনা ছিল আরও কিছু রাজ্যসভার সাংসদ পদত্যাগ করবেন। সেই মতো আজই প্রকাশ চিক বরাইক ইস্তফা দিয়ে দিলেন। আর তিনি ইস্তফা দেওয়ার পর রাজ্যসভায় তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ১০। আর সেই ১০ জনের মধ্যে থেকেও আরও কিছুজন পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর মিলছে। এখন দেখার পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে যায়।