
বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-এর সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু হয়েছে। আর সেই বৈঠকে যোগ দিয়েছে এনসিপিআই। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একই সারিতে বসতে দেখা গেল এনসিপিআই নেত্রী কাকলি ঘোষদস্তিদারকে। তারপরই নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তু্ঙ্গে উঠেছে।
মাথায় রাখতে হবে, বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পরই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের একাংশ বিদ্রোহী হয়েছিলেন। তাঁরা টিএমসি ছেড়ে যোগ দিয়েছেন এনসিপিআই-তে। আর দল ছাড়ার পরই তাঁরা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থন করবেন। সেই মতো শুরু হয়েছিল জল্পনা। একাধিক বৈঠকও চলছিল। তবে বাকি ছিল আনুষ্ঠানিক যোগদান।
আর এদিন এনসিপিআই-কে এনডিএ জোটের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাতেই অংশগ্রহণ করলেন এনসিপিআই-এর সাংসদরা। তবে এমন পরিস্থিতিতে অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, যদি এনসিপিআই দল হিসেবে স্বীকৃতি না পায়, সেক্ষেত্রে এই সাংসদরা সরাসরি বিজেপিতেও যোগ দিতে পারেন। তবে সেই বিষয়টা নিয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।
কারা যোগ দিলেন?
মঙ্গলবার সংসদে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র 'মঙ্গল মিলন' বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আর সেই বৈঠকে যোগ দিতে পৌঁছান বিদ্রোহী কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় ও সায়নী ঘোষ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিজেপি সাংসদ সুস্মিতা দেব থেকে শুরু করে এনসিপিআই-এর অন্যান্য নেতানেত্রীরাও।
এই বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কাকলি জানান, এখনই তাঁর কিছু বলার নেই। বৈঠক শেষ হলেই তিনি বলবেন।
বিদ্রোহী সাংসদদের আক্রমণে সৌগত রায়
এনডিএ সংসদীয় দলের 'মঙ্গল মিলন' বৈঠকে যোগ গিয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী তথা এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদরা। আর তাঁদের যোগদান নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায়। তাঁর অভিযোগ, যাঁরা তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা এখন এনডিএ-তে যোগ দিয়ে ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
তিনি বলেন, 'ওরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সামনে রেখে এবং বিজেপির বিরোধিতা করে নির্বাচনে জিতেছে। ওরা দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। যাঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে জিতে এসেছে, তাঁরা এখন বিজেপির সঙ্গেই যাচ্ছে। এই ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে আর কী-ই বা বলা যায়?'