
TMC to Protest Against Hawker Eviction: হাওড়া, শিয়ালদা স্টেশন চত্বরে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে পথে নামছে TMC। আগামী ২১ মে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত তৃণমূল কংগ্রেসের। হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ স্টেশন এবং বালিগঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসাবে এটাই তাদের প্রথম বড় কর্মসূচি। মঙ্গলবার নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই এই খবর।
তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই উচ্ছেদ এবং বুলডোজার রাজনীতি শুরু করেছে। গরিব হকার ও ছোট ব্যবসায়ীদের জীবিকা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। দলের দাবি, পুনর্বাসনের কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই হকারদের সরানো হচ্ছে। এতে বহু পরিবারের ভবিষ্যত অনিশ্চিত।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ এপ্রিল পূর্ব রেলের তরফে নোটিস জারি করা হয়। বলা হয়, ২ মে’র মধ্যে রেলের সমস্ত জমি দখলমুক্ত করতে হবে। পরে ব্যবসায়ীদের আবেদনে সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হয়। সেই ডেডলাইন শেষ হতেই হাওড়া ও শিয়ালদা স্টেশন চত্বরে শুরু হয় বুলডোজার অভিযান।
গত সপ্তাহে শনিবার হাওড়া স্টেশন চত্বরে চলে অভিযান। রাতেই প্রায় ১৫০টি ‘অবৈধ’ স্টল ভেঙে ফেলা হয়। একই ছবি শিয়ালদাতেও। ১ নম্বর থেকে ২১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সামনের এলাকা পুরোপুরি হকারমুক্ত করা হয়েছে । রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, যাত্রীদের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ। রেলের সিদ্ধান্তে খুশি নিত্যযাত্রীদের একাংশও।
তবে উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের দাবি, বিকল্প পুনর্বাসন ছাড়া এই অভিযান অমানবিক। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গায় ব্যবসা করে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছিল। আচমকা উচ্ছেদে তাঁদের ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। বিজেপির দাবি, তৃণমূল আমলে বেআইনিভাবে হকার বসানো হয়েছিল। হকারদের থেকে ‘তোলাবাজি’ও চলত স্টেশন চত্বরে। নতুন সরকার সেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
অন্য দিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।রবিবার রাতে এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। লেখেন, 'বাংলা বুলডোজারের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বাড়িঘর থেকে ফুটপাথের দোকান; গরিব মানুষ রাজনৈতিক ঔদ্ধত্যের মূল্য দিচ্ছেন।'
মমতার সেই মন্তব্যের পাল্টা জবাবও দিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, 'তৃণমূল জমানায় অবৈধ দখলদারি এবং তোলাবাজিকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। বিজেপি সরকার কোনও দুর্নীতি বরদাস্ত করবে না।'
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আপাতত বিরোধীর পদে TMC। সবার প্রথম এই ইস্যুকে সামনে রেখেই ফের জনসংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে ঘাসফুল শিবির। ভোটে পরাজয়ের পর দলীয় কর্মীদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছিল, এই আন্দোলনের মাধ্যমে তা কাটিয়ে সংগঠনকে ফের সক্রিয় করার চেষ্টা হতে পারে। সেই সঙ্গে হকার-ব্যবসায়ীদের পাশে থাকারও বার্তা দেওয়া যাবে।
তবে একটি বিষয় নিশ্চিত। হকার উচ্ছেদ, বেআইনি নির্মাণ ভাঙা এবং 'বুলডোজার' নিয়ে যে আগামিদিনে রাজ্য রাজনীতির পারদ আরও চড়বে, তা বলাই বাহুল্য।