Advertisement

Tulu Mondal Case: নেপালে গা-ঢাকা দেওয়ার ছক! গ্রেফতার টুলুর ভাগ্নে শেখ ওয়াসিম

সম্প্রতি বীরভূম জেলার মহম্মদবাজার থানার ডেউচা গ্রামের বাসিন্দা মিনার মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ প্রায় আঠাশ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি উদ্ধার হয় প্রায় ১৫ কেজি সোনা। এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় শুধু বীরভূম নয়, গোটা রাজ্যেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

টুলু মণ্ডলটুলু মণ্ডল
বিশাল দাস
  • কলকাতা,
  • 02 Aug 2026,
  • अपडेटेड 1:18 PM IST
  • কোটি কোটি টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত পাথর ব্যবসায়ী টুলু ওরফে নিজাবুদ্দিন মণ্ডল (Tulu Mondal) এখনও অধরা।

কোটি কোটি টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত পাথর ব্যবসায়ী টুলু ওরফে নিজাবুদ্দিন মণ্ডল (Tulu Mondal) এখনও অধরা। তবে তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি বেআইনি সম্পত্তির জাল গুটিয়ে আনতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান জারি রেখেছেন তদন্তকারীরা। এই তদন্তের সূত্র ধরেই এবার পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন টুলুর ভাগ্নে শেখ ওয়াসিম। শিলিগুড়ি হয়ে নেপালে গা-ঢাকা দেওয়ার পথেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার রামপুরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ওয়াসিমকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, এর আগেই সিউড়িতে টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। মিনার বর্তমানে পুলিশি হেফাজতেই রয়েছেন।

সম্প্রতি বীরভূম জেলার মহম্মদবাজার থানার ডেউচা গ্রামের বাসিন্দা মিনার মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ প্রায় আঠাশ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি উদ্ধার হয় প্রায় ১৫ কেজি সোনা। এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় শুধু বীরভূম নয়, গোটা রাজ্যেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কীভাবে এত বিপুল সম্পদ ওই বাড়িতে এল, তার উৎস কী এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত শুরু করে বীরভূম জেলা পুলিশ। তদন্তের শুরু থেকেই একাধিক ব্যক্তি পুলিশের নজরে ছিলেন। উদ্ধার হওয়া টাকা ও সোনার সঙ্গে কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকতে পারেন, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। সেই তদন্তেই উঠে আসে টুলু মণ্ডলের পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে টুলু মণ্ডলের ভাগ্নে শেখ ওয়াসিমের ভূমিকা সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শেখ ওয়াসিম ঘটনার পর থেকে আর নিজের পরিচিত এলাকায় ছিলেন না। তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য একাধিক সূত্রে নজরদারি চালানো হয়। তদন্তে ধাপে ধাপে তথ্য মিলতে শুরু করলে জানা যায়, তিনি উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি হয়ে নেপালে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এরপরই বীরভূম জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিলিগুড়ি পুলিশ। যৌথ তৎপরতায় শিলিগুড়ি থেকেই শেখ ওয়াসিমকে গ্রেফতার করা হয়।

Advertisement

পুলিশের দাবি, সীমান্ত পেরিয়ে বিদেশে চলে গেলে তদন্তে বড়সড় বাধা তৈরি হতে পারত। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়। শেষ পর্যন্ত নেপালে পালানোর আগেই শেখ ওয়াসিমকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাঁকে বীরভূমে নিয়ে আসা হয়।বীরভূমে আনার পর প্রথমে শেখ ওয়াসিমকে রামপুরহাট থানায় রাখা হয়। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া বিপুল অর্থ ও সোনার উৎস, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং এই ঘটনার নেপথ্যে আরও কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তকারীরা মনে করছেন, শেখ ওয়াসিমের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে, যা এই মামলার তদন্তকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। শনিবার ধৃত শেখ ওয়াসিমকে রামপুরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে পুলিশ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে, কোটি কোটি টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে এখনও জোর চর্চা চলছে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে। এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও মূল্যবান ধাতু কীভাবে একটি বাড়িতে মজুত ছিল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এই সম্পদের প্রকৃত মালিক কে, এর উৎস বৈধ না অবৈধ, এবং এই ঘটনার সঙ্গে কোনও বড় চক্র জড়িত কি না—এসব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।পুলিশ সূত্রের দাবি, এই মামলায় এখনও তদন্ত শেষ হয়নি। বরং শেখ ওয়াসিমের গ্রেপ্তারের পর তদন্তে নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ ও সোনার উৎস সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।তদন্তকারীরা এখন প্রতিটি তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করছেন। কারও ভূমিকা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না পুলিশ। তবে শেখ ওয়াসিমের গ্রেপ্তারকে এই বহুচর্চিত মামলার তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবেই দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।এখন নজর আদালতের পরবর্তী নির্দেশ এবং পুলিশের তদন্তের দিকে। শেখ ওয়াসিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আর কী কী তথ্য সামনে আসে, কোটি কোটি টাকা ও বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের এই ঘটনায় আর কারও নাম জড়িয়ে পড়ে কি না, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সকলের নজর।

 

রিপোর্টার- শান্তনু হাজরা

Read more!
Advertisement
Advertisement