Advertisement

শুভেন্দুর ‘জনতার দরবারে’ বাঁশদ্রোণীর স্কুল ও বর্ধমান মেডিক্যালের সন্তানহারা দুই মা, বিচারের আর্জি

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ এ বার হাজির হলেন সন্তান হারানো দুই মা। এক জন বাঁশদ্রোণীর একটি স্কুলে মৃত্যুর ঘটনায় আলোচিত ছাত্র আয়ুষকুমার নাথের মা, অন্য জন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রহস্যমৃত্যুর শিকার ডাক্তারি পড়ুয়া অমর্ত্য ঘোষালের মা। দু’জনেই তাঁদের সন্তানের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। পাশাপাশি, মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পেরে সাহায্যের আবেদন জানান আরও এক মা।

'জনতার দরবারে' শুভেন্দু অধিকারী।-ফাইল ছবি'জনতার দরবারে' শুভেন্দু অধিকারী।-ফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 13 Jun 2026,
  • अपडेटेड 4:15 PM IST
  • মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ এ বার হাজির হলেন সন্তান হারানো দুই মা।
  • এক জন বাঁশদ্রোণীর একটি স্কুলে মৃত্যুর ঘটনায় আলোচিত ছাত্র আয়ুষকুমার নাথের মা, অন্য জন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রহস্যমৃত্যুর শিকার ডাক্তারি পড়ুয়া অমর্ত্য ঘোষালের মা।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ এ বার হাজির হলেন সন্তান হারানো দুই মা। এক জন বাঁশদ্রোণীর একটি স্কুলে মৃত্যুর ঘটনায় আলোচিত ছাত্র আয়ুষকুমার নাথের মা, অন্য জন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রহস্যমৃত্যুর শিকার ডাক্তারি পড়ুয়া অমর্ত্য ঘোষালের মা। দু’জনেই তাঁদের সন্তানের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন। পাশাপাশি, মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পেরে সাহায্যের আবেদন জানান আরও এক মা।

শনিবার সকালে সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে আয়োজিত ‘জনতার দরবারে’ বহু মানুষের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আয়ুষের মা। গত ২৪ মে মৃত্যু হয় আট বছরের আয়ুষকুমার নাথের। পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি অসুস্থ অবস্থায় তাকে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হয়নি। পরে স্কুলের সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয় সে। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

আয়ুষের পরিবারের অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তাই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন আয়ুষের মা। সূত্রের খবর, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন জনতার দরবারে উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের মৃত ছাত্র অমর্ত্য ঘোষালের মা-ও। ২০২৪ সালে আরজি কর-কাণ্ডের কয়েক মাস আগে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয়েছিল ওই ডাক্তারি পড়ুয়ার। পরিবারের অভিযোগ, অমর্ত্য ‘থ্রেট কালচার’-এর শিকার হয়েছিল এবং তার মৃত্যুর তদন্তে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।

অমর্ত্যের পরিবার আগে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত শুরু করলেও সেই তদন্ত নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে পরিবারের। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর পরিবারের দাবি, তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন এবং বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ধাপা মাঠপুকুর এলাকার বাসিন্দা করুণা বাউড়িও এদিন জনতার দরবারে হাজির হন। তাঁর মেয়ের মুখে টিউমার ধরা পড়েছে। ভেলোরের সিএমসি হাসপাতালে চিকিৎসা চললেও আর্থিক সংকটের কারণে সেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প থেকে প্রাথমিকভাবে কিছু সাহায্য পেলেও পরে আর আর্থিক সহায়তা মেলেনি বলে অভিযোগ তাঁর।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর করুণা জানান, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর মেয়ের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন এবং চিকিৎসার খরচ বহনে সহযোগিতার কথাও বলেছেন।

এদিন জনতার দরবারে হাজির হয়েছিলেন ফার্স্ট টিয়ার সুপারভাইজার (এফটিএস)-রাও। আশাকর্মীদের তদারকির দায়িত্বে থাকা এই কর্মীদের অভিযোগ, তাঁরা মাত্র সাড়ে ছ’হাজার টাকা ভাতা পান এবং অতিরিক্ত কোনও সুযোগ-সুবিধা নেই। বেতন বৃদ্ধি-সহ একাধিক দাবি নিয়ে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান।

উল্লেখ্য, ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা সরাসরি শোনার জন্য ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি চালু করেছে বিজেপি সরকার। দলের তরফে জানানো হয়েছিল, প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সমস্যা শুনবেন। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই শনিবারের এই জনতার দরবারে বিভিন্ন জেলার মানুষ তাঁদের অভিযোগ ও দাবি নিয়ে হাজির হন।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement