Advertisement

Public Toilet বানাতে সাড়ে ৬ লাখ! পুরসভার হিসাবে হতবাক বাঁকুড়াবাসী

দু’কামরার শৌচালয় তৈরির জন্য বরাদ্দ সাড়ে ছয় লক্ষ টাকা। অবাক হলেন? আসলে আপনারই মতো অবাক বাঁকুড়ার বাসিন্দারাও। একটি ছোট্ট, ২ কামরার পাবলিক টয়লেটের টেন্ডার যে এত টাকার হতে পারে, তা ভেবেই চমকে উঠছেন সকলে।

টয়লেটের টেন্ডার যে এত টাকার হতে পারে, তা ভেবেই চমকে উঠছেন সকলে। টয়লেটের টেন্ডার যে এত টাকার হতে পারে, তা ভেবেই চমকে উঠছেন সকলে।
স্বপন কুমার মুখার্জি
  • বাঁকুড়া,
  • 05 Jan 2026,
  • अपडेटेड 6:10 PM IST
  • দু’কামরার শৌচালয় তৈরির জন্য বরাদ্দ সাড়ে ছয় লক্ষ টাকা।
  • পুরনো একটি শৌচালয় ভেঙে সেখানে নতুন টয়লেট ব্লক তৈরির কাজ শুরু হয়।
  • সমস্ত নিয়ম মেনে, ই-টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পান ঠিকাদার।

দু’কামরার শৌচালয় তৈরির জন্য বরাদ্দ সাড়ে ছয় লক্ষ টাকা। অবাক হলেন? আসলে আপনারই মতো অবাক বাঁকুড়ার বাসিন্দারাও। একটি ছোট্ট, ২ কামরার পাবলিক টয়লেটের টেন্ডার যে এত টাকার হতে পারে, তা ভেবেই চমকে উঠছেন সকলে। সম্প্রতি বাঁকুড়া পুরসভার সামনে পুরনো একটি শৌচালয় ভেঙে সেখানে নতুন টয়লেট ব্লক তৈরির কাজ শুরু হয়। কাজের দায়িত্ব পায় একটি ঠিকাদার সংস্থা। সমস্ত নিয়ম মেনে, ই-টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পান ঠিকাদার। এরপর নিয়ম মেনে পুরসভার সামনে খরচ সংক্রান্ত বোর্ড টাঙানো হয়। আর সেই বোর্ড চোখে পড়তেই চমকে ওঠেন পথচলতি মানুষ।

বোর্ডে লেখা, ওই দু’কামরার টয়লেট তৈরির জন্য বরাদ্দ মোট ৬ লক্ষ ৫১ হাজার ৭৩৩ টাকা। অঙ্কটি দেখে হতবাক হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। অনেকেই ওই বোর্ডের ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। শুরু হয় সমালোচনার ঝড়।

তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজাও। আসানসোলের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই বোর্ডের ছবি পোস্ট করেন। সরাসরি পুরসভার বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। বিজেপির তরফে প্রশ্ন তোলা হয়, সরকারি আবাস প্রকল্পে যেখানে শহরে ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার এবং গ্রামে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় উপভোক্তারা এক কামরার ঘর, বারান্দা, রান্নাঘর এবং শৌচালয় তৈরি করছেন, সেখানে পুরসভার একটি দু’কামরার শৌচালয়ের জন্য এত টাকা বরাদ্দ কেন?

এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় রাজনৈতিক বাক-বিতণ্ডা। বিতর্ক বাড়তেই তড়িঘড়ি নির্মাণকারী সংস্থা পুরসভার সামনে থেকে নির্মাণ সংক্রান্ত তথ্যের বোর্ড সরিয়ে ফেলে। 

যদিও পুরসভার তরফে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পুরসভার দাবি, এই অর্থ বরাদ্দ করেছে সুডা, অর্থাৎ স্টেট আরবান ডেভলপমেন্ট অথরিটি। ই-টেন্ডারের মাধ্যমে সেই কাজ করানো হচ্ছে। আধুনিক সমস্ত সুযোগ-সুবিধা সহ টেকসই শৌচালয় তৈরির পরিকল্পনা থাকাতেই বরাদ্দের অঙ্ক বেশি বলে দাবি পুর কর্তৃপক্ষের। তাছাড়া বরাদ্দের পাশাপাশি ঠিকাদারদেরও কিছুটা মুনাফার সুযোগ রাখতে হয়। নয় তো তাঁরাই বা সময় দিয়ে, পরিশ্রম করে কাজ করাবেন কেন!

Advertisement

তবে এই ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের অনেককেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি। বিষয়টি অবাক করেছে আবাস যোজনার উপভোক্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদেরও। তাঁদের অনেকেরই প্রশ্ন, একটি ছোট্ট পাবলিক টয়লেট নির্মাণে এত বড় অঙ্ক বরাদ্দ হয় কীভাবে? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বাঁকুড়া শহরের অলিগলিতে।

সংবাদদাতা: নির্ভীক চৌধুরী

Read more!
Advertisement
Advertisement