
Uniform Civil Code Bengal: পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির (UCC) উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ইমাম মৌলানা মহম্মদ শফিক কাসমি। তাঁর দাবি, 'অভিন্ন দেওয়ানি বিধি দেশের বা দেশের মানুষের স্বার্থে নয়। কোনও একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে আইন তৈরি করা হচ্ছে। সেটি উচিত নয়।' নতুন সপ্তাহেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ইউসিসি বিল আনা হতে পারে। সেই আবহেই তাঁর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।
রবিবার পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মৌলানা শফিক কাসমি বলেন, 'ইউনিফর্ম সিভিল কোড দেশের স্বার্থে নয়, মানুষের স্বার্থেও নয়। যদি এমন হত যে এই আইনের ফলে ভারতের কোনও এক সম্প্রদায়ের উপকার হবে, তা হলে একটা কথা ছিল। এমনকি মুসলিমদের ক্ষতি হলেও যদি হিন্দু বা অন্য কোনও সম্প্রদায়ের উপকার হতো, তা হলেও না হয় বিষয়টি বিবেচনা করা যেত। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করে আইন তৈরি করা বা সেই উদ্দেশ্যে আইন আনা সমীচীন বলে মনে হয় না।'
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি বিল আনার কথা জানিয়েছেন। বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনের সঙ্কল্পপত্রেও ক্ষমতায় এলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকেই সরকার এগোচ্ছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
অন্যদিকে, ইউসিসি ইস্যুতে ইতিমধ্যেই বিরোধিতার সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। তাদের অভিযোগ, এই বিল কার্যকর হলে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ব্যক্তিগত আইন এবং ধর্মীয় স্বাধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বলতে এমন একটি আইনকে বোঝায়, যেখানে ধর্ম নির্বিশেষে দেশের সমস্ত নাগরিকের জন্য বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, সন্তানের অভিভাবকত্ব এবং পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত একটিই দেওয়ানি আইন কার্যকর থাকবে।
ভারতীয় সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অতীতে একাধিক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টও বিষয়টি বিবেচনার কথা উল্লেখ করেছে। কিন্তু কেন্দ্র বা কোনও রাজ্য সরকারকে ইউসিসি চালুর সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
এখনও পর্যন্ত উত্তরাখণ্ড, গুজরাত এবং অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হয়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গেও সেই পথে এগোনোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিধানসভা সূত্রে খবর, অধিবেশনের দ্বিতীয়ার্ধে ইউসিসি বিল পেশ হতে পারে। বিলটি এলে তা নিয়ে শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষের বিস্তৃত আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।