
কাটোয়া শহরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অন্দরে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে দিগন্ত পালকে ঘিরে ওঠা একের পর এক অভিযোগ। শ্মশানে দেহ গণনা করে দিনের কাজ শুরু করলেও, ধীরে ধীরে তিনি পুরসভার প্রভাবশালী 'মাতব্বর' হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রের খবর, শ্মশানে প্রতিদিন কতগুলো দেহ দাহ করা হচ্ছে, সেই হিসাব নিয়মিতভাবে পুরসভায় পাঠানোই ছিল তাঁর দায়িত্ব। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই দিগন্ত পালই হয়ে ওঠেন পুরসভার অন্দরের এক শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক মুখ। অভিযোগ, এর নেপথ্যে ছিলেন কাটোয়ার তৎকালীন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠতা ও আশীর্বাদ।
স্থানীয়দের দাবি, বিধায়কের 'ঘরের ছেলে' হিসেবে পরিচিত হওয়ায় দ্রুতই তাঁর ক্ষমতা ও প্রভাব বাড়তে থাকে। একসময় চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর থেকে শুরু করে পৌরসভার কর্মীরাও তাঁকে সমীহ করে চলতেন বলে অভিযোগ। এই সুযোগেই তিনি শহরের প্রশাসনিক ব্যবস্থার একাধিক স্তরে প্রভাব বিস্তার করেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন সম্পত্তি দখল এবং অবৈধ ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। পরে তিনি একটি প্লাইউডের দোকানও চালু করেন, যা নিয়ে আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শহরের একাংশের দাবি, দিগন্ত পালের একটি প্রভাবশালী ঘনিষ্ঠ মহল ছিল, যারা তাঁকে 'সমাজসেবী' হিসেবে প্রচার করত। এই পরিচয়ের আড়ালেই তিনি নানা ধরনের প্রভাব খাটাতেন বলে অভিযোগ। বালি ঘাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসায়িক লেনদেনেও তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
সম্প্রতি একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে দিগন্ত পাল গ্রেফতার হতেই পুরো বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কাটোয়ায়। শহরবাসীর একাংশ এখন চাইছে, তাঁর সমস্ত আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক, এমনকি ইডি বা আয়কর দফতরের হস্তক্ষেপের দাবিও উঠেছে।