
'আপনাদের যদি ঋতব্রত, সন্দীপন সাহাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকে, আমাকে রিপোর্ট করবেন, আমি পদক্ষেপ করব,' কুণাল ঘোষকে এমনই 'আশ্বাস' দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে আদি তৃণমূলের কুণাল ঘোষ। অন্যদিকে নতুন 'বিরোধী' তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার অদ্ভুত এক সমীকরণ দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায়। দুই তৃণমূল, এক বিজেপি। শিশুরা প্রথমবার কোনও খাবার খেলে তার স্বাদ নিয়ে রীতিমতো কনফিউজড হয়ে থাকে। আপাতত পশ্চিমবঙ্গবাসীর অবস্থা কিছুটা তেমনই। একে এই প্রথম বিধানসভার লাইভ স্ট্রিমিং হচ্ছে। আর সেখানে এই আজব কম্বিনেশনে মাথা চুলকাচ্ছেন রাজ্যবাসী।
মঙ্গলবার বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনা চলছিল। কিন্তু তা কার্যত রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডাতেই পরিণত হল। কখনও কুণালের বিরুদ্ধে উঠল 'চোর' স্লোগান। কখনও জটিল ইতিহাস, সমাজতত্ত্ব বোঝালেন ঋতব্রত। আর তারপর বক্তব্য রাখতে উঠে একের পর এক রাজনৈতিক ইস্যুতে বলতে শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগের সরকারের আমলের হিংসা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কাজকর্ম, দুর্নীতি নিয়ে বলতে শুরু করেন।
ঋতব্রতের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, 'বিরোধী দলনেতা আপনার বক্তৃতা ছিল কমিউনিস্ট আন্দোলনের মতো। পশ্চিমবাংলার বিরোধী দলনেতার মতো বক্তব্য ছিল না। আপনার মস্তিষ্কে কার্ল-মার্কস আর হৃদয়ে লেনিন অথবা মাও সে তুং আছে। যাঁরা রবীন্দ্রনাথকে বুর্জোয়া কবি বলেছিল তাঁদের থেকে উপদেশ নেব না।'
সব মিলিয়ে কে আসল তৃণমূল, কে প্রকৃত বিরোধী আর কে কার নামে অভিযোগ করবেন, গোটা বিষয়টি নিয়েই এক অদ্ভুত সমীকরণ তৈরি হল বিধানসভায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামিদিনের রাজ্য রাজনীতি যে এক জিলিপির প্যাঁচের মতো রূপ নিচ্ছে, তা এদিনের পরিস্থিতি থেকেই স্বাভাবিক। শেষ পর্যন্ত কোন তৃণমূল প্রকৃত বিরোধীর রূপ নেয়, সেটাই দেখার।