
স্বাধীনতার পর থেকে রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের বাজেট। ফলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও রয়েছে ডাবল। আজ বিধানসভায় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে বঙ্গবাসী। তবে প্রত্যাশার পাহাড় কিন্তু নতুন সরকারের সামনে। কৃষি থেকে শুরু করে শিল্প, শিক্ষা- সব খাতেই রাজ্যবাসী 'সুরাহা' পাওয়ার মোডে রয়েছে। এই বাজেট পেশেই ঠিক হয়ে যাবে আগামী ৫ বছরে রাজ্যে ঠিক কোন কোন খাতে জোর দিতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
DA নিয়ে প্রত্যাশা তুঙ্গে
এই মুহূর্তে বাজেটের দিকে পাখির চোখে দেখছেন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা। কারণ, তাঁরা DA নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই টালবাহানার মধ্যে রয়েছেন। সরকারে আসার ক্ষেত্রে বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বলা হয়েছিল, বকেয়া সমস্ত ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার পর লাগু হবে সপ্তম বেতন কমিশন। সেই প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ হয়, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। অনেকেই মনে করছে ধাপে ধাপে বকেয়া মেটানোর একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ সামনে আনতে পারেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী।
সিঙ্গুরে শিল্পের বার্তা আসতে পারে
বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে শিল্প আসবে এই প্রতিশ্রুতিতে ভরসা দেখিয়েছে বঙ্গবাসী। আজকের বাজেটে সেই ভরসার ফল পাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সিঙ্গুর হতে পারে শুভেন্দু সরকারের মাস্টারস্ট্রোক। গত ১২ জুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, "আগামী ২২ তারিখ আমাদের রাজ্য বাজেট হবে। এই বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের যে প্রত্যাশা আছে আমাদের কেন্দ্র করে, তা পূরণের চেষ্টা করব আমরা।" শিল্প নিয়ে তিনি বলেছিলেন, "টাটাকে এখানে আনব আমরা। আমাদের শিল্প পুনর্গঠন দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন রাজ্য়ের অত্যন্ত সিনিয়র, পাঁচ বারের MLA তাপস রায়। শিল্প দফতরের টিমও ভাল রয়েছে। ইতিমধ্যে আমার কাছে বহু বহু প্রকল্প এসে গিয়েছে।" ফলে রাজ্য সরকার শিল্পমুখী বাজেট করতে পারে বলে প্রত্যাশা রয়েছে।
রাজ্যের কৃষকরা নতুন স্কিমের আওতায় আসতে পারেন
কৃষি ক্ষেত্রও এই বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকার পেতে চলেছে। কৃষকদের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, শস্য বিমার পরিধি সম্প্রসারণ, সেচ প্রকল্পের জন্য বাড়তি বরাদ্দ, কৃষি যন্ত্রপাতিতে বিশেষ ছাড় এবং কৃষি ঋণে সুদের ওপর ভর্তুকির মতো একগুচ্ছ কৃষক দরদি পদক্ষেপের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের কৃষকদের জন্য চালু প্রকল্প এতদিন রাজ্যের কৃষকেরা পেতেন না বলে বারেবারে অভিযোগ করে আসছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই খাতে বাজেট বরাদ্দ করা হতে পারে।
কেন্দ্রের একাধিক স্কিম বাংলায় লাগু হবে বলে প্রত্যাশা
কেন্দ্রের একাধিক স্কিমে এবারের বাজেটে যুক্ত হতে পারে বলে প্রত্যাশা রয়েছে। জল জীবন মিশন থেকে শুরু করে, প্রধানমন্ত্রী কৃষি বিমার মতো প্রকল্প বাংলায় লাগু করতে অর্থ বরাদ্দ হতে পারে।
বাংলাকে স্পেশাল প্যাকেজ দেওয়া হতে পারে কি?
এই মুহূর্তে রাজ্য সরকারে ঘাড়ে রয়েছে আট লক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা। একইসঙ্গে চলছে বিভিন্ন সরকারি সাহায্যমূলক প্রকল্প। সেগুলিতেও খরচ রয়েছে বিস্তর। ফলে বাজেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজ্যে এবার 'ডবল ইঞ্জিন সরকার' হওয়ায় স্পেশাল প্যাকেজ পেতে পারে বাংলা। দিল্লিতে স্বপন দাশগুপ্তের সঙ্গে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বৈঠক সেই জল্পনা আরও উসকেও দিয়েছে।