
পশ্চিমবঙ্গের শহরাঞ্চলজুড়ে রাস্তায় রাস্তায় দেখা যায় আবর্জনার স্তূপ। সরকারের পালাবদল হলেও পুরসভাগুলি এখনও তৃণমূলের দখলে আছে। তবে পুরসভাগুলির ওপর নজরদারি রাখছে সরকার। শহরের পুর এলাকাগুলিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে শুরু হচ্ছে ‘স্বচ্ছতা অভিযান’। এর জন্য বিশেষ 'জিও-ট্যাগিং' প্রযুক্তির কথা বলেন নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আবর্জনা অপসারণের জন্য এই অ্যাপ ব্যবহার করা হবে।
কীভাবে কাজ করবে 'জিও-ট্যাগিং' প্রযুক্তি?
অগ্নিমিত্রা জানান, "কলকাতা কিংবা আসানসোলে আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেখছে চারিদিকে আবর্জনা পড়ে আছে। খুব শীঘ্রই অ্যাপ চালু করা হবে। যেখানেই ময়লা পড়ে থাকতে দেখবেন, সেই ছবি তুলে অ্যাপে আপলোড করতে হবে। নাগরিকেরা রাস্তাঘাটে জমে থাকা আবর্জনার ছবি তুলে অ্যাপে আপলোড করতে পারবেন। জিও-ট্যাগিং প্রযুক্তিতে সঠিক অবস্থান জানা যাবে। এই ছবি সঙ্গে সঙ্গে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে চলে যাবে।
এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল কলকাতা ও আসানসোলের মতো শহরগুলিকে আবর্জনার স্তূপ নির্মূল করা।
মন্ত্রী আরও জানান, এক-দুই ঘণ্টার মধ্যে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ওই আবর্জনা পরিষ্কার করে ফেলবেন।
পাশাপাশি, তিনি এও আবেদন করেন, নাগরিকরা যাতে রাস্তায় ময়লা না ফেলেন।
কবে থেকে চালু হবে?
'জিও-ট্যাগিং' প্রযুক্তি চালু হওয়ার দিন ঘোষণা হয়নি। তবে শীঘ্রই চালু করা হবে বলে মন্ত্রী জানান। পুরসভা এখনও তৃণমূলের অধীনে চলছে। পুরসভা নির্বাচনের আগে না পরে এটি চালু হবে তা আগামী সময়ে জানা যাবে।
জিও-ট্যাগিং কীভাবে কাজ করে?
জিও-ট্যাগিং (Geo-tagging) হল একটি ডিজিটাল প্রক্রিয়া, যা ছবি, ভিডিও, ওয়েবপেজ বা অন্য কোনও মাধ্যমে ভৌগোলিক অবস্থান যুক্ত করা হয়। গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (GPS) প্রযুক্তির সহায়তায় এই ট্যাগগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়, যা কোনও নির্দিষ্ট জায়গার নিখুঁত লোকেশন নির্দেশ করে।
জিও-ট্যাগিং কীভাবে কাজ করে?
মোবাইল বা ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে কোনও ছবি বা ভিডিও তোলা হলে, এই ডিভাইসের মাধ্যমে জিপিএস সেন্সর তাৎক্ষণিকভাবে সেই জায়গার ভৌগোলিক স্থান দেখিয়ে দেয়। পরবর্তী সময়ে গুগল ম্যাপ বা অন্য কোনও ম্যাপ অ্যাপের মাধ্যমে সেই ফাইলটি খুললে সরাসরি দেখা যায় বস্তুটি বা দৃশ্যটি ঠিক কোন জায়গা থেকে রেকর্ড করা হয়েছিল।