
সরকারি হাসপাতালের ওপিডি মানেই ভোর থেকে লম্বা লাইন। অনেক ক্ষেত্রেই সেই লাইন দুপুর গড়িয়ে বিকেল না নামলে ফিকে হতে চায় না। তাই অনেকেই সরকারি হাসপাতালের ওপিডি পরিষেবা নিতে চান না। তাঁরা কিছুটা টাকা খরচ করে হলেও প্রাইভেট ক্লিনিকে এই সব সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের দেখিয়ে থাকেন। আর ঠিক এই সমস্যারই সমাধান করতে এগিয়ে আসছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। যতদূর জানা যাচ্ছে, এবার রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে ইভিনিং ওপিডি চালু হচ্ছে। এর ফলে সকাল এবং সন্ধে, দুই সময়ই ওপিডি পরিষেবা মিলবে।
তবে মাথায় রাখতে হবে, সন্ধের এই ওপিডি ফ্রি নয়। বরং গাঁটের কড়ি খরচ করেই ডাক্তার দেখাতে হবে বলে জানা যাচ্ছে। তবে বেসরকারি জায়গার থেকে ফি অনেকটাই থাকবে কম। সাধ্যের মধ্যে শহরের সেরা সব চিকিৎসকদের দেখানো যাবে বলে জানা যাচ্ছে।
সূত্রের খবর, সরকার একটা রেভিনিউ শেয়ারিং মডেলের মতো করেই দেখছে এই ইভিনিং ওপিডিকে। এক্ষেত্রে ইভিনিং ক্লিনিকে টাকা দিয়েই দেখাতে হবে ডাক্তার। আর রোগীর থেকে যেই টাকা পাওয়া যাবে, তার ৬০ শতাংশই দেওয়া হবে ডাক্তারবাবুদেরে। এছাড়া ২০ শতাংশ দেওয়া হবে নার্সকে। আর ১০ শতাংশ গ্রুপ ডি কর্মীকে দেওয়া হতে পারে। এরপর বাকি থাকবে ১০ শতাংশ। সেটা যাবে সরকারের কোষাগারে।
কী সুবিধা হবে রোগীদের?
অনেকেই সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারই দেখাতে চান। কিন্তু সকালে ওপিডি-তে সাংঘাতিক ভিড় ঠেলে দেখাতে চান না। বরং তার বদলে প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে দেখিয়ে আসেন। সেখানে শান্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যায়। আর এই সমস্যারই সমাধান করতে চাইছে সরকার।
তারা চাইছে যাতে সরকারি ক্ষেত্রের মধ্যেই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ কম খরচে সরকারি চিকিৎসকদের দেখাতে পারেন। সেই কারণেই চালু করার চেষ্টা চলছে ইভিনিং ওপিডি।
এই সব ওপিডিতে মানুষ খুব সহজেই চিকিৎসক দেখাতে পারবেন। নামমাত্র খরচ করে এড়ানো যাবে ভিড়। এছাড়া কোনও রোগীর যদি ভর্তির প্রয়োজন হয়, তখনই ডাক্তার অ্য়াডমিশন লিখে দিতে পারবেন। তার ফলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য আর ঝক্কি পোহাতে হবে না।
কবে চালু হবে?
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, ইভিনিং ওপিডি চালু করার কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে সরকার। তবে এই ওপিডি চালু করতে চাইলে জাতীয় নীতিগত প্রস্তাব চালু করতে হবে রাজ্যের মন্ত্রীসভায়। তারপরই এই ওপিডি চালু করা সম্ভব হবে।
শুধু তাই নয়, দুম করে এই পরিষেবা চালু করতে চাইছে না স্বাস্থ্য দফতর। তার আগে ডাক্তারদেরও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। তাঁরা কী বলেন, তার উপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে।
ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে
এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, বর্তমানে জেলা হাসপাতাল, মহকুমা, স্টেট জেনারেল এবং সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালগুলিতে ইভিনিং ওপিডি পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এই ওপিডিগুলি বিকেল ৩টে থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে।