
'লিখিতভাবে আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আমাদের দাবির বিস্তারিত তথ্য জমা দিয়েছি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা ধৈর্য সহকারে আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।' আজ দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই বললেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা তথা বিদ্রোহী তৃণমূলীদের 'দলনায়ক' ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
আসলে তৃণমূল কংগ্রেস দলটি কার, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। আর এমন পরিস্থিতিতেই ঋতব্রতর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের ১০ জন বিধায়কের একটি প্রতিনিধি দল আজ নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, '২২ জুন তৃণমূল কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশনে হয়। আমরা কার্যকরী কমিটির পুনর্গঠনের বিষয়েও কমিশনকে জানিয়েছি। ২৩ জুনই আমরা নির্বাচন কমিশনকে এই তথ্য দিয়েছিলাম। সেই সময়ই কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলাম। আজ সেই সময় পাওয়া গিয়েছে।'
এখানেই শেষ না করে তিনি আরও জানান, তাঁরা কমিশনকে দাবি করেছেন যে তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। দলের কেন্দ্রীয় কমিটি, সংসদীয় দল, বিধায়ক দল, জেলার স্তরের অধিকাংশ সংগঠন তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে। তারপর তিনি বলেন, 'নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা খুব শীঘ্রই আমাদের দাবি এবং জমা দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে।'
পাশাপাশি এ দিন তিনি দলের আমাদের কর্পোরেট সংস্কৃতি, মাফিয়াতন্ত্র এবং পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধেও আওয়াজ তুলেছেন। ঋতব্রতর স্পষ্ট বক্তব্য, 'একটা তৃণমূল স্তরের দল পরিবারের হাতে চলে গিয়েছিল।' তার বিরুদ্ধেই একত্রিত হয়েছেন তাঁরা।
মিটিংয়ের আগে কী বলেন?
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অরূপ রায়ের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। এটি একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। যখনই এ ধরনের অধিবেশন বা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, তখন রাজনৈতিক দলের পক্ষে নির্বাচন কমিশনকে সেই বিষয়ে জানান বাধ্যতামূলক। সেই কারণেই আমরা সেখানে যাচ্ছি।'
ওই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিষয়টা নিয়েও তিনি মুখ খোলেন। তাঁর কথায়, 'আমি দাবিদাওয়া নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। সব আসনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল। তবুও তৃণমূল হেরেছে। বাংলার জনাদেশ তৃণমূলের বিরুদ্ধে গিয়েছে।'