
Birju Keot Police Custody: পুলিশের হেফাজতে এক তৃণমূল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ। তীব্র উত্তেজনা ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায়। মৃতের নাম বীরজু কেওট। তিনি তৃণমূলের কর্মী এবং কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামী। ঘটনায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন বীরজুকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তাঁর স্ত্রী। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে পুলিশি ভূমিকা এবং ‘রুল অফ ল’ বা আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও যদি কোনও ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেয় এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়, তা হলে শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, আইনের শাসন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
কী ঘটেছিল কাঁচরাপাড়ায়?
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে বীরজুকে গ্রেফতার করে হালিশহর থানার পুলিশ। তোলাবাজি এবং দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। গ্রেফতারের পর নিয়মমাফিক তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। পরে তাঁকে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়ই রাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন বীরজু। তাঁকে কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তবে পরিবারের দাবি, এর আগে বীরজুর সঙ্গে দেখা করেছিলেন তাঁর স্ত্রী। জেনি শর্মা কেওটের বক্তব্য, রাত ৯টা নাগাদ তিনি স্বামীর সঙ্গে দেখা করেন। সেই সময় বীরজু সুস্থই ছিলেন বলে তাঁর দাবি। তার পরেই পুলিশ হেফাজতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।
‘দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর’, অভিযোগ স্ত্রীর
মৃতের স্ত্রী জেনি শর্মা কেওট পুলিশি নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, তদন্তকারী আধিকারিক বীরজুকে মারধর করেছিলেন। এমনকি দড়ি দিয়ে বেঁধে তাঁকে পেটানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
পরিবারের আরও অভিযোগ, বীরজুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়নি। পরে হাসপাতালে গিয়ে তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন তাঁরা বলে দাবি পরিবারের।
মৃতের স্ত্রীর দাবি, বীরজুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তের দাগ ছিল। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিষেকের নিশানা
বীরজুর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর সমাজমাধ্যমে সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, বীরজুর নাম এফআইআরে ছিল না। তা সত্ত্বেও তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ হেফাজতে নিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে পুলিশ হেফাজতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
অভিষেকের বক্তব্যের মূল প্রশ্ন, কোনও নাগরিককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর তিনি যদি জীবিত অবস্থায় আর বাড়ি ফিরতে না পারেন, তা হলে সেই ঘটনার দায় এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাঁর কথায়, বিষয়টি আর শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, ‘রুল অফ ল’ বা আইনের শাসনের প্রশ্নও সামনে আসে।
পুলিশ যদি সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপত্তার বদলে আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠে, তা হলে নাগরিকদের সুরক্ষা কে দেবে; এই প্রশ্নও তোলেন অভিষেক।
বিজেপির স্থানীয় বিধায়কের বক্তব্য
ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাসও। তাঁর দাবি, মৃত বীরজু স্থানীয় তৃণমূল নেতা কমল অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশি তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
পরিবারের কোনও সাহায্যের প্রয়োজন হলে পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক।
অন্য দিকে, তৃণমূল নেতা অমিত গুপ্ত ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনিও।