
ছুটির অনুমোদন আগে থেকে নিতে হবে। তবেই কামাই করা যাবে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য কড়া নির্দেশ দিয়ে দিল শিক্ষা দফতর। ডিএ, টেট-সহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন ও কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে শিক্ষকদের একাংশ স্কুলে উপস্থিত থাকছেন না বেশির ভাগ দিনই। অভিযোগ, ছুটির অনুমোদন না নিয়েই তাঁরা দিনের পর দিন স্কুল কামাই করছেন। এর ফলে পড়াশোনায় প্রভাব পড়ছে। সিলেবাস ঠিক সময়ে শেষ হচ্ছে না। সেই পরিস্থিতিতে বিশেষ করে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের অনুপস্থিতি নিয়ে জেলাগুলিকে সতর্ক করল শিক্ষা দফতর।
অনুমতি ছাড়া ছুটি নিলে কড়া ব্যবস্থা
এই বিষয়ে রাজ্যের সমস্ত জেলা স্কুল পরিদর্শককে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা আগাম অনুমতি ছাড়া স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে সেই বিষয়টি ফেলে রাখা যাবে না। দ্রুত নিয়ম মেনে পদক্ষেপ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ছুটির আবেদন যদি নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে তা দ্রুত মঞ্জুর করতে হবে। আর ছুটি পাওয়ার মতো পরিস্থিতি না থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
ছুটির আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি
শুধু নতুন করে অনুপস্থিতির ঘটনা নয়, ইতিমধ্যে অননুমোদিত ছুটি বা অনুপস্থিতির যে সমস্ত মামলা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, সেগুলিও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার নথি, পরিস্থিতি এবং গুরুত্ব বিচার করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনের নামে দিনের পর দিন স্কুল কামাই
সম্প্রতি ডিএ এবং টেট-সহ একাধিক দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন আন্দোলন, বিক্ষোভ কর্মসূচি করছে। সেই কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে শিক্ষকদের একাংশ দিনের পর দিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকছেন বলে অভিযোগ। যদিও আন্দোলনে অংশ নেওয়া বা অন্য কোনও কারণে স্কুলে অনুপস্থিত থাকার ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে ছুটি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অনুমোদন ছাড়া স্কুলে না আসাকে আর কোনওভাবেই দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখতে চাইছে না শিক্ষা দফতর। এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশও করছে শিক্ষা দফতর।
দফতরের এই নির্দেশের মূল লক্ষ্য, শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারণে যাতে পড়ুয়াদের পঠনপাঠন ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে ছুটি সংক্রান্ত আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে প্রশাসনিক পদক্ষেপ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।