
বাংলায় ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে SIR বা ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন হয়। আর সেই তালিকায় বাদ গিয়েছে লক্ষ লক্ষ নাম। তারপর 'ডিলিটেড' ভোটারদের একটা বড় অংশ ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন। যদিও ট্রাইব্যুনালের যা গতি, তাতে সেখানে আবেদন করা ৩৭ লক্ষ ভোটারের আবেদনের নিষ্পত্তি করতে ১২ বছর লেগে যেতে পারে। তাই মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আরও বেশি ট্রাইব্যুনাল তৈরির জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ইতিমধ্যেই বিষয়টা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা জমা দিয়েছে কমিশন। সেখানে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে ট্রাইব্যুনালগুলি আপিলের শুনানি শুরু করেছে। তারপর এখনও পর্যন্ত ১,২৬,১৯৪টি কেসের নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২৫,২৩৮টি মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে।
ও দিকে, ১৬ সেপ্টেম্বর এই হলফনামা জমা দেওয়ার সময় পর্যন্ত ৩৭,০৫,২৩৫টি আপিল নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে। তাই কমিশনের আশঙ্কা, এই গতিতে ট্রাইব্যুনালগুলি সপ্তাহের সাত দিন কাজ করলেও মামলা নিষ্পত্তি করতে ১৪৬ মাস লেগে যাবে। অর্থাৎ সময় লাগতে পারে ১২ বছরেরও বেশি।
এমন পরিস্থিতিতে প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষেই সওয়াল করেছেন তারা। সেই মতো আরও বেশি সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল গঠনের আবেদন করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের জন্য একটি করে ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব কমিশন দিয়েছে।
SIR নিয়ে ৩৮ লক্ষেরও বেশি আপিল
নির্বাচন কমিশনের দাবি, SIR-এর পর ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মোট ৩৮.৩১ লক্ষ আপিল জমা পড়েছে।
এর মধ্যে ২২.২১ লক্ষ ভোটার নিজের নাম তালিকায় তোলার জন্য আবেদন করেছেন। এঁদের নাম ডিলিট হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে ১৬.১০ লক্ষ আপিল করা হয়েছে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে।
১ লক্ষেরও বেশি নাম ফের ভোটার তালিকায়
ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছে ট্রাইব্যুনালগুলি। সেখানে নিষ্পত্তি হয়েছে ১,২৬,১৯৪টি কেস। এগুলির মধ্যে ১,১৩,৯৪৩টি ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া আপিলগুলির ৯০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে ভোটারদের নাম ফের ভোটার তালিকায় ফিরে এসেছে।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল নিয়ে দাবি খারিজ কমিশনের
বিরোধীদের একাংশের দাবি, SIR-এর মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে কমিশন। এতে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। যদিও হলফনামায় এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের বক্তব্য, বেশ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ের ব্যবধান বাদ পড়া নামের সংখ্যা তুলনায় বেশি ছিল। তাই ভোটে জয়ের ব্যবধানের সঙ্গে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা তুলনা করাকে নির্বাচন কমিশন আমল দিতে রাজি নয়।
এক্ষেত্রে কমিশন কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের উদাহরণও দিয়েছে। তাদের দাবি, এমন কয়েকটি আসনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, যেখানে বাদ পড়া নামের সংখ্যা জয়ের ব্যবধানের চেয়ে বেশি ছিল।