
বিধানসভায় সই জাল-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে দু'ভাগে ভাগ হয়ে যেতে বসেছে তৃণমূল দলটি। এই কাণ্ডে বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। এরপর ঘটে নাটকীয় ঘটনা। তৃণমূলের ৫৮ বিধায়ক ঋতব্রতের পক্ষে চলে আসে। তাঁকে বিরোধী দলনেতা করে নতুন তৃণমূল দল গঠনের জল্পনা শুরু হয়। এই সই জাল বিতর্কে যে দুই বড় নেতার নাম জড়ায় তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মেয়র তথা বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। বৃহস্পতিবার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে যায় রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি-র প্রতিনিধিদল। অন্যদিকে, অভিষেকের বাড়িতেও গিয়েছিল সিআইডি। তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে এই আশঙ্কারয় আদালতের কাছে আগেই রক্ষাকবচ চেয়ে নেন অভিষেক।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে পরিষদীয় দলের চিঠিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই ছিল। ওই ঘটনায় সিআইডি অভিষেককে ভবানী ভবনে তলবও করে। গ্রেফতার হতে পারেন, এই আশঙ্কায় রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন অভিষেক। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি রয়েছে।
এ ছাড়া, এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার আদালতে তৃণমূলের তিন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, হাওড়া মধ্যের বিধায়ক অরূপ রায় এবং মহেশতলার বিধায়ক শুভাশিস দাস। ঠিক কি এই সই-জাল কাণ্ড যা নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি? যাকে কেন্দ্র করে ভাঙতে বসেছে তৃণমূল? ফেঁসেছেন ফিরহাদ-অভিষেক।
কী এই সই-জাল কাণ্ড?
গত ৯ মে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসের কাছে একটি চিঠি পাঠান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করতে চেয়ে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে বিধানসভার স্পিকারকে এই চিঠিটি দেওয়া হয়েছিল। সেই চিঠিতেই কিছু ‘অসঙ্গতি’ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ তোলে বর্তমান শাসক দল। এই সই-জাল কাণ্ডে সেই তদন্তভার রাজ্য সরকার তুলে সিআইডি-র হাতে তুলে দেয়। তৃণমূল বিধায়ক হিসাবে ওই চিঠিতে মেয়র ফিরহাদ হাকিমেরও সই ছিল। কখন, কীভাবে সই করা হয়েছে সে বিষয়ে ফিরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। এছাড়া তৃণমূলের আরও কয়েকজন বিধায়কের বাড়িতে হানা দিয়েছে সিআইডি। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতেও যায় সিআইডি। তাঁদের বক্তব্য শোনা হয়। তা ভিডিয়োগ্রাফিও করা হয়।
সইয়ে কীরকম 'অসঙ্গতি' ধরা পড়ে?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, গত ২৭ মে তৃণমূলের তরফে যে রেজলিউশন কপি জমা পড়ে, সেখানে বিধায়কদের নাম ‘ব্লক লেটারে’ সই করা হয়েছিল। এতেই সন্দেহ তৈরি হয়। তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার নিজেরাই স্পিকারের কাছে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁরা দাবি করেন, বিরোধী দলনেতা বাছার জন্য গত ৬ মে-র যে রেজলিউশন দেখানো হচ্ছে, তা ভুয়ো। অভিযোগ ১৪ জন বিধায়কের সই ব্লক লেটারে জাল করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন বিধায়কের রেজলিউশন কপিতে থাকা সই তাঁদের নয় বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই বহিষ্কার হন দুই বিধায়ক।
এই ঘটনায় প্রথমে কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। এরপর মামলা সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়া হয়। একেই 'চোর' তকমায় জেরবার তৃণমূল। তারমধ্যে সই-জাল কাণ্ডে আরও কোণঠাসা তৃণমূল।
অভিষেককে তলব
এই ঘটনায় অভিষেককে ভবানী ভবনে তলব করে সিআইডি। গত ১ জুন, সোমবার অভিষেককে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অসুস্থতা দেখিয়ে হাজির হননি। তাঁকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী ৮ জুন তাঁকে ফের হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রক্ষাকবচ চান অভিষেক। আজ কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানি রয়েছে।