
মালদা জেলা পরিষদের ক্ষমতা কি হাত বদলাতে চলেছে? নাকি শেষ মুহূর্তে বদলে যাবে পুরো খেলা? উত্তর খুঁজতেই এখন সবার নজর সেই বহু চর্চিত জেলা পরিষদের দিকে। মালদা জেলা পরিষদে মোট ৪৩টি আসন। পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩৪টি আসন দখল করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস পেয়েছিল পাঁচটি আসন এবং বিজেপির দখলে ছিল চারটি। সেই সংখ্যার জোরেই বোর্ড গঠন করে তৃণমূল।
সেই সময় সভাপতির দায়িত্ব পান লিপিকা বর্মন ঘোষ এবং সহকারী সভাপতি হন আবু তাইয়ুব মহম্মদ রফিকুল হোসেন। কিন্তু সেই ছবিতে এখন আর আগের মতো নিশ্চয়তা নেই। তৃণমূলের অন্দরেই শুরু হয় অসন্তোষ। সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে দলেরই একাংশ। মোট ১৯ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সদস্য অনাস্থা পত্রে সই করেন। ১৭ অগাস্ট সেই অনাস্থার তলবি সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নাটকীয় মোড় আসে তার আগেই। ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ করেন সভাপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ এবং সহকারী সভাপতি রফিকুল হোসেন।
মালদা ডিভিশনাল কমিশনার এবং জেলা শাসকের কাছে পাঠিয়ে দেন পদত্যাগপত্র। ফলে নতুন করে সামনে আসে সেই পুরনো, অথচ আরও জটিল প্রশ্ন—এবার জেলা পরিষদের মসনদে বসবে কে? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই বিস্ফোরক দাবি করেন দক্ষিণ মালদার কংগ্রেস সাংসদ তথা মালদা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি ইশা খান চৌধুরী। তাঁর দাবি, জেলা পরিষদ আর তৃণমূলের থাকবে না। এবার নাকি কংগ্রেসের দখলেই আসতে চলেছে জেলা পরিষদ। আরও একধাপ এগিয়ে সাংসদের দাবি, জেলা পরিষদের একাধিক সদস্য কংগ্রেসকে সমর্থন করতে পারেন। এমনকি কংগ্রেসে যোগও দিতে পারেন। অর্থাৎ তৃণমূলের ৩৪ আসনের পুরনো অঙ্ককে উল্টে দেওয়ার মতো নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলেই দাবি কংগ্রেসের।
কিন্তু কংগ্রেসের এই দাবি মানতে নারাজ তৃণমূল। তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য প্রতিভা সিংয়ের দাবি, কংগ্রেসের পাঁচ সদস্যই তৃণমূলের ডাকা অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থন করেছেন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখনও তৃণমূলেরই। তাই কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
বিজেপির মালদা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় জানান, বাংলায় সুশাসন এসেছে। বাংলার মানুষের করের টাকা লুটপাট করা যাবে না। যারা ক্ষমতা ছিল তারা দূনীর্তি করেছে। অর্থ লুঠ করেছে। যারা অনাস্থা ডেকেছে তারা টাকার ভাগ পায়নি। তাই অনাস্থা করে ক্ষমতা দখল করে টাকা লুঠ করতে চাইছে। বিজেপি তা হতে দেবে না। ফলে মালদা জেলা পরিষদের ক্ষমতা কার হাতে থাকবে। তা সময় বলবে।
তার মধ্যেই ‘কেন আমি যোগ দেব...’—এই কথোপকথন ঘিরে অডিও ভাইরালের চর্চা আরও বাড়িয়েছে রহস্য। তাহলে কি সত্যিই তৃণমূলের ঘরে ভাঙন ধরেছে? কংগ্রেসের দাবি কি বাস্তবে প্রমাণিত হতে চলেছে? নাকি ৩৪ আসনের পুরনো সংখ্যার জোরেই শেষ হাসি হাসবে তৃণমূল? জেলা পরিষদের চেয়ার এখন আর শুধু একটি চেয়ার নয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ক্ষমতা, দলবদল আর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের অঙ্ক। আর সেই অঙ্কের শেষ ফলাফল কী—তা বলবে সময়। (রিপোর্টার মিলটন পাল)