
বুধবার সন্ধ্যায় নবান্নে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও JSW গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান সজ্জন জিন্দল। সেই বৈঠকে যেমন শিল্প, বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, ঠিক তেমনই উঠে এসেছে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি। যেই কারণে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের হাল ফেরাতে জিন্দল গোষ্ঠী হাসপাতালের দায়িত্ব নিতে চায় বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'উনি একটা প্রোপোজাল দিয়েছেন। মেদিনীপুরে যে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপতাল রয়েছে, ওটা উনি সম্পূর্ণ টেকআপ (দায়িত্ব) করতে চান। বাণিজ্যিকভাবে নয়, সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে। আমি হেলথ সেক্রেটরিকে বলেছি, এটা দেখে নেওয়ার জন্য।'
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ওখানে হার্টের চিকিৎসার ব্যবস্থা থেকে এসএনসিইউ ইউনিট, সবটাই করতে চায় জিন্দল গ্রুপ। তবে কোনও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ব হিসেবেই হাসপাতালের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকারের শর্ত মেনেই হাসপাতালের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে দাবি করেন শুভেন্দু।
পশ্চিমবঙ্গের মন্দির সংস্কারের দায়িত্ব
এছাড়া জিন্দাল গ্রুপের তরফে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পুরনো মন্দির সংস্কারের দায়িত্বও দেওয়া হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'পুরনো মন্দিরও সংস্কার করতে চান। তিনি কেদারধামে করেছেন বললেন। আমরা পুরনো প্রাচীন মন্দিরের তালিকা তৈরি করছি। বেশ কিছু মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তিনি নিতে চান।'
বড় বিনিয়োগ
এই বৈঠকের পর রাজ্যে বিনিয়োগের আশা নিয়েও বড় কথা বলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, 'সজ্জন জিন্দাল আমার সঙ্গে কথা বলেছেন জানুয়ারির ফার্স্ট উইকে ওঁনার পাওয়ার প্ল্যান্টের সেকেন্ড ইউনিটের ভূমিপুজো করবেন। আমি ওনাকে বলেছি স্কিল ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে আপনি একটা ইনস্টিটিউট বানিয়েছেন, সেখানে চাকরিগুলো দিতে হবে ছেলেদের। সেটা বাড়াতে হবে।'
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে শালবনীতে JSW গোষ্ঠীর ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্প গড়ে তুলতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। আর এই প্রকল্পটি যদি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম মেদিনীপুর সহ আশপাশের এলাকায় শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। সেই সঙ্গে বাড়বে কর্মসংস্থান। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন হবে।
সূত্রের খবর, এই বৈঠকে রাজ্যে জিন্দলদের আরও সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষত, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সিমেন্ট, বন্দর, ইস্পাতের মতো শিল্পে বিনিয়োগ নিয়ে কথা হয়েছে। যদিও কোথায় কোন খাতে বিনিয়োগ হবে, সেই বিষয়ে এখনও কিছু খোলসা করা হয়নি।