Advertisement

NASA's Citizen Scientist 2022: নতুন ৩ গ্রহানু খুঁজে দিলেন বাংলার তরুণ বিজ্ঞানী, সম্মান জানাল NASA

NASA's Citizen Scientist 2022 From Bengal: ২০২২ এর নাসা-র 'নাগরিক বিজ্ঞানী' বা NASA Citizen Scientist হিসেবে খেতাব ছিনিয়ে নিলেন উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার উজ্জ্বল অধিকারী। এই উজ্জ্বলই আবার ২০২১ সালে বিশ্বের সর্বতম কনিষ্ঠ এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বিশ্ব রেকর্ডটি করেছিলেন।

২০২২ এর নাসা-র 'নাগরিক বিজ্ঞানী' বা NASA Citizen Scientist হিসেবে খেতাব ছিনিয়ে নিলেন উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার উজ্জ্বল অধিকারী।২০২২ এর নাসা-র 'নাগরিক বিজ্ঞানী' বা NASA Citizen Scientist হিসেবে খেতাব ছিনিয়ে নিলেন উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার উজ্জ্বল অধিকারী।
সুদীপ দে
  • কলকাতা,
  • 28 Nov 2022,
  • अपडेटेड 6:40 PM IST
  • ২০২২ এর নাসা-র 'নাগরিক বিজ্ঞানী' বা NASA Citizen Scientist হিসেবে খেতাব ছিনিয়ে নিলেন উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার উজ্জ্বল অধিকারী।
  • এই উজ্জ্বল অধিকারী ২০২১ সালে বিশ্বের সর্বতম কনিষ্ঠ এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বিশ্ব রেকর্ডটি করেছিলেন।

NASA's Citizen Scientist 2022 From Bengal: নাসা বা ন্যাশনাল এরোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NASA)হল বিশ্বের মহাকাশ গবেষণায় সর্বোচ্চ সংস্থা। এর সঙ্গেই এবার নাম জড়াল বাংলার! ২০২২ এর 'সিটিজেন সায়েন্টিস্ট' অথবা নাসা-র 'নাগরিক বিজ্ঞানী' (NASA Citizen Scientist) হিসেবে খেতাব ছিনিয়ে নিলেন উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার উজ্জ্বল অধিকারী। এই উজ্জ্বলই আবার ২০২১ সালে বিশ্বের সর্বতম কনিষ্ঠ এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বিশ্ব রেকর্ডটি করেছিলেন। গত বছর তিনিই বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ এরোস্পেস চাটার্ড ইঞ্জিনিয়র (Aerospace Chartered Engineer) হিসেবে নজির গড়েন।

নিমতার মেধাবী এই যুবক শিক্ষা ও গবেষণার জগতে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন আগেই, এবার তাঁর মুকুটে জুড়ল নতুন পালক। ২০২২-এ নাসার তরফে 'সিটিজেন সায়েন্টিস্ট' বা 'নাগরিক বিজ্ঞানী' হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। উজ্জ্বলের দাবি, এই খেতাব এ বছরে এদেশে সম্ভবত তিনি একাই পেয়েছেন! উজ্জ্বলের এই সম্মান একজন ইঞ্জিনিয়র হিসাবেই শুধু নয়, একজন ভারতীয় হিসেবেও অত্যন্ত গর্বের। 

কী করেছেন উজ্জ্বল? কীভাবে পেলেন নাসার (NASA)এই খেতাব?
উজ্জ্বল জানান, প্রতি বছরই বিভিন্ন বিজ্ঞান সংক্রান্ত প্রকল্পের আওতায় নিজেদের মতামত প্রকাশের এবং কাজ করার অভিজ্ঞতা জানানোর জন্য আবেদন করা যায় নাসার (NASA)কাছে। এই আবেদন করতে পারেন সকলেই। যে কোনও নাগরিক, গবেষক, বিজ্ঞানী অথবা বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা করা যে কেউ এই প্রকল্পের আওতায় আবেদন করে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এখানে নির্দিষ্ট বিষয়ের উপরে গবেষণা চালিয়ে প্রাথমিক ভাবনার কথা, প্রস্তাবের কথা পাঠাতে হয় নাসা-কে। প্রতি বছরই দেশ-বিদেশ থেকে লাখ লাখ গবেষণা-উদ্ভাবন সংক্রান্ত আবেদন জমা পড়ে নাসার (NASA)কাছে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে এবং কাজ খতিয়ে দেখে নির্বাচিত হন শতাধিক ব্যক্তি। এর মধ্যে থেকে চূড়ান্ত তালিকায় থাকা বিশ্বের সেরা কয়েকজনকে 'সিটিজেন সায়েন্টিস্ট' অথবা নাসা-র 'নাগরিক বিজ্ঞানী'র (NASA Citizen Scientist) এই খেতাব দেয় বিশ্বের মহাকাশ গবেষণায় সর্বোচ্চ সংস্থা, পাঠানো হয় শংসাপত্রও। এই সিটিজেন সায়েন্টিস্টদের অভিজ্ঞতা, গবেষণাপত্রের উপর ভিত্তি করে ওই নির্দিষ্ট প্রকল্পের গবেষণার কাজ শুরু করে নাসা। নাসা-র আমন্ত্রণে সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে প্রয়োজন মতো ডাক পড়ে এই সমস্ত সিটিজেন্স সায়েন্টিস্ট বা নাগরিক বিজ্ঞানীদের। নাসার ডাক পাওয়া মানেই বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি মোটা অঙ্কের সম্মনিকও পান এই এই সিটিজেন সায়েন্টিস্টরা। এ বছরে বাংলা তথা ভারত থেকে এই সুযোগ পেয়েছেন উজ্জ্বল!

Advertisement

নাসার (NASA) 'সিটিজেন সায়েন্টিস্ট' অথবা নাসা-র 'নাগরিক বিজ্ঞানী'র (NASA Citizen Scientist) প্রকল্পে বিশ্বের একাধিক দেশের বহু আবেদনকারীর পাঠানো তথ্য বিচার করে নাসার এই সংক্রান্ত বিভাগ। চলে বিশ্লেষণ। এরপর একটি তালিকা প্রকাশিত হয়। তারপর ফের চলে বিচার-পর্ব। অবশেষে কমপক্ষে সেরা ৩০ জনকে বছরের 'বিজ্ঞানী' হিসেবে মনোনীত করা যায়। যাঁরা ইমেইলের মাধ্যমে পান শংসাপত্র।

নিমতার বাসিন্দা উজ্জ্বল বর্তমানে কাজের সূত্রে থাকেন বেঙ্গালুরুতে। সেখানেই একটি সংস্থার সঙ্গে বিমানের নকশা করেন তিনি। বরাবরের মেধাবী উজ্জ্বলের স্বপ্ন ছিল আকাশ নিয়ে গবেষণা। তাঁর কথায়, ''আগেও চেষ্টা করেছি। সেবার ৩০ জনের মধ্যে আসতে পারিনি। এবার পেরেছি। ভালো লাগছে এই সম্মান পেয়ে।''

কীসের জন্য নাসার (NASA) সিটিজেন সায়েন্টিস্ট সম্মান পেলেন?
উজ্জ্বল বলেন, “এবছরের জন্য নাসা-র তরফে দেওয়া হয়েছিল অ্যাস্টরয়েড (Asteroid) বা গ্রহানু নিয়ে বিশেষ প্রকল্প। এই যে তারাখসা-উল্কা মহাকাশে রকমারি ঝলকানি, নানা গ্রহ, উপগ্রহের বাস সম্পর্কে আমরা জানি। তাদের নিয়েই কাজ। আমি এই গবেষণায় তিনটি নতুন অ্যাস্টরয়েড বা গ্রহানুর সন্ধান দিয়েছি নাসাকে। ওই প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাঠিয়েছিলাম ওই তিনটি নতুন অ্যাস্টরয়েড সম্পর্কে। তবে ভাবিনি নির্বাচিত হব।”

নাসার সিটিজেন সায়েন্টিস্ট হওয়ার পর এবার কী করবেন?
উজ্জ্বল বলেন, “আমি ইঞ্জিনিয়র। চাকরি করি। নাসা ডাকলে সেখানেও যাব। তার জন্য চাকরি ছাড়তে হবে না। আমার মাধ্যমে বিশ্বের বিজ্ঞানীদের নজরে পড়া গ্রহানুদের নিয়ে আরও জানার, গবেষণার সুযোগ পাব।” 

পেশায় এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার উজ্জ্বল শুধু ইঞ্জিনিয়র নন, বিমানের নকশা তৈরির সঙ্গেই তাঁর শখের খাতায় রয়েছে কবিতা লেখা। তাঁর ব্যক্তিগত খ্যাতির ঝুলিতে রয়েছে একাধিক পুরস্কারও। উজ্জ্বলের পড়াশোনা এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে। এর পাশাপাশি, এমপিবিল ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ সেন্টারের অ্যাস্ট্রোনমি এস্ট্রো-ফিজিক্স নিয়ে পড়াশোনাও চলে জোরকদমে। 'বিগ ব্যাং থেওরিরির ওপরে গবেষণা সন্দর্ভ জমা দেন পড়ুয়া থাকাকালীন। ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স থেকে এরোস্পেস এর ওপরে চার্টার ইঞ্জিনিয়রিং পাস করেন তিনি। 

এরপরই আসে প্রথম জয়ের শিরোপা অর্জন। ২০২০ সালে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে ভারতের কনিষ্ঠতম এরোস্পেস চার্টার্ড ইঞ্জিনিয়র হিসেবে নাম ওঠে তাঁর। এখানেই থেমে থাকেননি উজ্জ্বল। ২০২১ সালে বিশ্বের কনিষ্ঠতম এরোস্পেস চার্টার্ড ইঞ্জিনিয়র হিসেবে বিশ্বরেকর্ডটিও উজ্জলের ঝুলিতে রয়েছে। আবার 'প্রফেসর শঙ্কু' থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি সাইন্স ফিকশন সিরিজ রচনা করেন উজ্জ্বল। যার নাম 'প্রফেসর উজান সিরিজ'। ২০২২ সালে কানাডা থেকে আন্তর্জতিক সাহিত্য সম্মানে ভূষিত হয়েছেন বাংলার ছেলে উজ্জ্বল অধিকারী। তাঁর ভাগ্যে জুটেছে ডক্টর এপিজে আব্দুল কালাম পুরস্কার, ভারতভূষণ সম্মান, রাষ্ট্রীয় রত্ন পুরস্কার এবং ইন্ডিয়া প্রাইমের বিচারে সেরা ১০০ ভারতীয় লেখকদের তালিকায় তাঁর নাম উঠেছে। ইতালির প্যানোরোমা আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্বও করেন তিনি। 

মহাকাশের নতুন তিনটি গ্রহানুর নাম উজ্জ্বলের নামে রেখেছে NASA; কেমন লাগছে?
উজ্জ্বল বলেন, “খুব ভালো লাগছে আর এর কৃতিত্ব পুরটাই আমি আমার মা-বাবাকে দিতে চাই। মফস্বলের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মে মহাকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতে পেরেছি ওঁদেরই অসংখ্য আত্মত্যাগ, অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য। মা-বাবার আশির্বাদ আর সহযোগিতা ছাড়া আমি এতদূর পৌঁছতে পারতাম না। পরবর্তীতে আমি দেশের মানুষের জন্য আমাদের দেশের জনকল্যাণের জন্য কিছু কাজ করতে চাই। একজন বাঙালি হিসাবে সহজ-সরল ভাষায় বিজ্ঞান চর্চাকে আরও বোধগম্য করে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে চাই। ছেলেবেলার চাঁদ-তারা দেখার ভাললাগাটাকে মহাকাশ ভালবাসায় রূপান্তরিত করতে চাই সকলের জন্য।”

Advertisement
Read more!
Advertisement
Advertisement