Advertisement

Uttarpara Govt Hospital: চরম অব্যবস্থা উত্তরপাড়ার সরকারি হাসপাতালে, নাজেহাল রোগী ও তাঁদের পরিবার

একজন মুমূর্ষু রুগী নিজের হাতে স্যালাইনের বোতল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর হাসপাতালের কর্মীরা বলছেন গিয়ে শুয়ে পড়তে! এরপর দীর্ঘক্ষণ ধরে সেই হাতে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে বাসুদেববাবুকে চুপচাপ শুয়ে থাকতে হয়েছিল।

উত্তরপাড়া সরকারি হাসপাতালউত্তরপাড়া সরকারি হাসপাতাল
স্বপন কুমার মুখার্জি
  • কলকাতা,
  • 04 Oct 2026,
  • अपडेटेड 4:29 PM IST
  • এই ঘটনার পর বাসুদেব আদক নিজেই মিডিয়ার সামনে মুখ খুলেছেন।

শুরু করছি একটা ছোট্ট প্রশ্ন দিয়ে? আপনার বা আপনার পরিবারের কারও কখনও সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে কি? যদি হয়ে থাকে, তাহলে এই দৃশ্যটা আপনার চেনা ঠেকারই কথা। একটা সরকারি হাসপাতাল, যেখানে মানুষ যায় একটু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার আশায়। কিন্তু সেখানে যদি চিকিৎসার বদলে অবহেলা আর ছটফটানি কপালে জোটে, তখন ঠিক কী অবস্থা হয় একবার ভেবে দেখেছেন? ঠিক এইরকমই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে গেছে রাজ্যের একটি সরকারি হাসপাতালে। আর সেই ঘটনার যে ভিডিও সামনে এসেছে, তা দেখলে আপনার গায়ের রোম খাঁড়া হয়ে যাবে।

মঙ্গলবার, অর্থাৎ ২৯ সেপ্টেম্বর রাতের ঘটনা। জ্বর, সর্দি, কাশি—সাধারণ কিছু সমস্যা নিয়েই উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বাসুদেব আদক নামের এক ব্যক্তি। বয়স খুব বেশি নয়, শরীরটা এমনিতেই দুর্বল। ডাক্তারবাবু দেখেশুনে একটা স্যালাইন প্রেসক্রাইব করলেন। নিয়মমতো স্যালাইন চলছেও। কিন্তু আসল কান্ডটা ঘটল ঠিক তার পরেই। স্যালাইন যখন শেষ হয়ে এল, তখন বোতলের ভেতর আর ওষুধ নেই, তার বদলে ড্রিপের নল বেয়ে হুড়মুড় করে উল্টো দিকে রক্ত উঠে আসছে! ভাবুন তো একবার, একটা মানুষের শরীরে এমনিতেই রক্ত কম, তার ওপর স্যালাইনের পাইপ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসছে—কী ভয়ঙ্কর একটা পরিস্থিতি!

আর এই বিপদের মুহূর্তে হাসপাতালের ডাক্তার-নার্সদের কী ভূমিকা ছিল জানেন? একদম সোজাসাপ্টা উত্তর—কাউকেই নাকি আশপাশে পাওয়া যায়নি! কোনও হেলদোল নেই, কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই। বাসুদেববাবু বাধ্য হয়ে নিজে হাতে ওই স্যালাইনের বোতলটা ঝুলিয়ে সোজা চলে গেলেন নার্সদের রুমে। ভাবুন তো অবস্থাটা! যে মানুষটার বিছানায় শুয়ে থাকার কথা, তাকে স্যালাইনের স্ট্যান্ড সমেত বা বোতল হাতে নিজে হেঁটে নার্সদের কাছে দরবার করতে হচ্ছে। সেখানে গিয়েও কি সুরাহা মিলল? একদমই না! উল্টে নার্সরা তাকে খুব নির্বিকারভাবে বললেন, "যান, গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ুন। লোক গিয়ে স্যালাইন পাল্টে দিয়ে আসবে।"

Advertisement

কী অদ্ভুত ব্যাপার বলুন তো! একজন মুমূর্ষু রুগী নিজের হাতে স্যালাইনের বোতল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, আর হাসপাতালের কর্মীরা বলছেন গিয়ে শুয়ে পড়তে! এরপর দীর্ঘক্ষণ ধরে সেই হাতে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে বাসুদেববাবুকে চুপচাপ শুয়ে থাকতে হয়েছিল। স্যালাইনটা যে সময়মতো বন্ধ করা হবে বা পাল্টানো হবে, সেই গরজটুকুও কেউ দেখাননি। আর এখানেই শেষ নয়। যখন রোগী বা তার বাড়ির লোকেরা এই অমানবিক আচরণের প্রতিবাদ করতে গেছেন, তখন তাদের আরও বড় একটা হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। ডাক্তার থেকে শুরু করে নার্স—সবাই নাকি ধমক দিয়ে বলে দিয়েছেন, "বেশি কথা বলবেন না, ভালোয় ভালোয় বাড়ি চলে যান!" মানে চিকিৎসা পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টে সরকারি হাসপাতালে মুখ খুললেই বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি!

এই ঘটনার পর বাসুদেব আদক নিজেই মিডিয়ার সামনে মুখ খুলেছেন। তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন যে, মঙ্গলবার তিনি যখন ভর্তি হন, তখন তার অবস্থা সত্যি খারাপ ছিল। স্যালাইন শেষ হয়ে যাওয়ার পর যখন পাইপ দিয়ে রক্ত উঠে আসছে, তখন চারধারে তাকিয়েও তিনি কোনও নার্স বা হাসপাতালের কর্মীকে দেখতে পাননি। বাধ্য হয়েই তাকে নিজে হাতে ওই অবস্থায় হেঁটে নার্সদের কাছে যেতে হয়েছিল। সেখানে যাওয়ার পরেও কেউ সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেননি। উল্টে তাঁকে বসিয়ে রাখা হয়। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেছেন, "সরকারি জায়গা তো, তাই চাইলেও বেশি কিছু বলা যায় না, মুখ বুজে সহ্য করতে হয়।"

বাসুদেববাবু আরও একটা মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই হাসপাতালে শুধু রুগীদের সাথেই নয়, রুগীদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গেও মাঝেমধ্যেই চরম দুর্ব্যবহার করা হয়। কেউ একটু প্রতিবাদ করলেই তাদের ওপর চড়াও হন হাসপাতালের কর্মীরা। অথচ এই উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালের মতো জায়গায় প্রতিদিন শত শত সাধারণ মানুষ চিকিৎসা করাতে আসেন। এখানকার পরিকাঠামো যদি এমন ছন্নছাড়া হয়, সাধারণ মানুষ তবে কোথায় যাবে? কার ভরসায় বেঁচে থাকবে?

শুধু বাসুদেববাবুই একা নন, ওই ওয়ার্ডের পার্শ্ববর্তী অন্য একটি বেডের রুগীর সঙ্গেও সেদিন চরম দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এক রুগীর আত্মীয় যখন কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে জানতে চান যে কেন তাদের সঙ্গে এমন খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে, তখন নাকি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আর সেই পুরো ঘটনার ভিডিও রুগীর বাড়ির লোকেরা নিজেদের মোবাইলে রেকর্ড করে নেন। আর সেই ভিডিওই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের বেগে ভাইরাল! ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালের আসল চিত্রটা। স্যালাইনের নলে রক্ত উঠে আসার সেই দৃশ্য দেখে যে কেউ শিউরে উঠবেন। 

রিপোর্টারঃ পার্থ রাহা
 

Read more!
Advertisement
Advertisement