একটা সরকারি প্রাথমিক স্কুল। অথচ স্কুলের গেট পেরিয়ে ভিতরে ঢুকলেই মনে হবে, যেন কোনও নামী বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ক্যাম্পাসে চলে এসেছেন। দেওয়ালে রঙিন ছবি, ছবির মধ্যে সমাজ সচেতনতার বার্তা, পরিবেশ রক্ষার পাঠ, ইতিহাসকে জানার সুযোগ, আদিবাসী সংস্কৃতির সংগ্রহশালা, ডিজিটাল ক্লাসরুম, বিজ্ঞানসম্মত মিড ডে মিলের ব্যবস্থা, মুক্তমঞ্চ, বিনোদন পার্ক, এমনকি স্কুল চত্বরেই ভেষজ উদ্যান। ভাবছেন কোনও বড় শহরের অত্যাধুনিক স্কুলের কথা বলছি? একেবারেই নয়। এই স্কুল রয়েছে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামে। আর এই স্কুলের সবচেয়ে বড় পরিচয় শুধু তার ঝাঁ চকচকে চেহারা নয়। এই স্কুল আসলে একটা ভাবনার নাম। এমন একটা ভাবনা, যেখানে পড়াশোনা মানে শুধু বইয়ের পাতা মুখস্থ করা নয়, বরং সমাজকে চেনা, নিজের শিকড়কে জানা, প্রকৃতিকে ভালোবাসা এবং ভবিষ্যতের জন্য দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে ওঠা। আর সেই কারণেই বাসন্তীর জয়গোপালপুর আদিবাসী অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন অন্যরকম এক মডেল হয়ে উঠেছে।