
'শুধু যাওয়া আসা, শুধু তারা খসা'। আজ, ১৪ ডিসেম্বর বুধবার এরকমই মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে পৃথিবী। যেদিন প্রতিঘণ্টায় ১২০টি উল্কা আতসবাজির মতো খসে পড়বে আকাশ থেকে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ভারতে সন্ধে সাড়ে ছটার পর ওই দৃশ্য দেখা যাবে। ওই জেমনিড উল্কার ঝরনা (Geminid Meteor Shower)শুরু হয়েছে চলতি মাসের ৪ তারিখ থেকেই।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা কী জানালেন?
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন, ‘জেমিনিড এসেছে ৩২০০ ফায়থন নামে এক পাথুরে গ্রহাণু থেকে। ফায়থন কোন গ্রহাণুর বিচ্ছিন্ন অংশ যা সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করার সময়, ধুলো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে মহাকাশে। পৃথিবীর অভিকর্ষজ বলের টানে খুব কাছে এসে পড়লে বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষে আগুন জ্বলে ওঠে।
আজ রাতে উল্কাবৃষ্টি
নাসা জানিয়েছে, ‘জেমিনিড মেটিওর শাওয়ার’ সারা আকাশ জুড়ে আলো ছড়ায়। উত্তর পূর্ব আকাশের জেমিনি নক্ষত্র পুঞ্জের কাছ থেকে ছুটে আসে এই উল্কারা, তাই এর নাম ‘ জেমিনিড।’ গতিবেগ ঘণ্টায় ৭৮ হাজার মাইল বা সেকেণ্ডে ৩৫ কিলোমিটার। দৃশ্যমানতা ভালো থাকলে, মেঘের বাধা না থাকলে ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৬০ টি উল্কাবৃষ্টি দেখা যেতে পারে।
এই উল্কাবৃষ্টি চলবে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। যা সবথেকে তীব্র হবে আজ, ১৪ ডিসেম্বর সন্ধেয়। এই বৃষ্টি খুব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে যদি টেলিস্কোপ বা দূরবীন ব্যবহার করা যায়।
সৌরমণ্ডলের বাইরে প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত কুইপার বেল্ট। যেখানে ধুলো আর গ্যাসের ঘনত্ব খুব কম। পাথর আর বরফের টুকরোয় ভরা এই কুইপার বেল্টের মধ্যেই ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকে ধূমকেতুরা। বছরে একবার সূর্যকে সেলাম জানাতে আসে তারা। তখনই সূর্যের তেজে এদের শরীরের কিছু অংশ উল্কা হয়ে পৃথিবীতে ঝরে পড়ে।
সূর্যকে প্রদক্ষিণের সময় প্রচণ্ড উত্তাপে ধূমকেতুর মাথার খানিকটা অংশ ছিটকে বেরিয়ে উল্কা
গত মাসেই পৃথিবীর অতিথি হয়ে এসেছিলো ‘ লিওনেড।’ সে ‘ টেম্পল টাটল’ নামে ধূমকেতুর অংশ। যে আবার ওই সুদূর ‘ কুইপার বেল্টের’ বাসিন্দা। প্রতি ৩৩ বছরে একবার সূর্যকে পাক খেয়ে যায়। আর সূর্যকে প্রদক্ষিণের সময় প্রচণ্ড উত্তাপে ধূমকেতুর মাথার খানিকটা অংশ ছিটকে বেরিয়ে উল্কা হয়ে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে।