
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজ়রায়েল এবং ইরানের সংঘাত। ক্রমেই জটিল পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি(Middle East News)। সেই সংঘাতের জেরে জীবন বিপন্ন হচ্ছে ভারতীয় নাবিকদেরও। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে হরমুজ প্রণালী(Strait of Hormuz) ও সংলগ্ন এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলা হয়েছে। তাতে অন্তত ১৩ জন ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৩ জন। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিদেশ মন্ত্রক। আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে ভারত। এদেশের বহু যুবক আকর্ষণীয় বেতনের জন্য মার্চেন্ট নেভির কেরিয়ার বেছে নেন। ফলে তাঁদের জন্য এই ধরণের ঘটনা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক।
সরকারি সূত্রের খবর, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংঘাত(US Iran War) শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালী(Hormuz Attacks) দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলি বারবার হামলার মুখে পড়ছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জ্বালানি পরিবহণ করিডর হিসেবে পরিচিত এই জলপথ। সেখানে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠক করেন। জানান, সম্প্রতি পরপর দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে। একটি জাহাজে ১২ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। সেই হামলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য জাহাজটিতে ছিলেন ১৮ জন ভারতীয়। তাঁদের মধ্যে নয় জন গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দু'জনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির শিকার হয়েছেন ভারতীয় নাবিকরাই। যদিও সাংবাদিক বৈঠকে মোট মৃতের সংখ্যা আলাদা করে জানানো হয়নি। সরকারি সূত্রে পরে জানা যায়, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ১৩ জন ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩ জনের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
কূটনৈতিক মহলের মতে, শুধু জাহাজে হামলাই নয়, সমুদ্রপথে বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ভারতীয় নাবিকদের একটি বড় অংশ পশ্চিম এশিয়া-সহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত। ফলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়বে।