Advertisement

অপসারিত চিন সেনার ৪২ কর্মকর্তা, তদন্তের মুখে ১০০ আধিকারিক; তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে PLA?

বিশ্লেষকদের মতে, গত চার বছরে PLA-র নেতৃত্বে যে নজিরবিহীন রদবদল হয়েছে, এটি তারই আর একটি বড় অধ্যায়। ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১০০-রও বেশি সামরিক কর্মকর্তাকে হয় বরখাস্ত করা হয়েছে, নয়তো তদন্ত বা শৃঙ্খলামূলক নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

চিনের সেনায় চলছে রদবদল চিনের সেনায় চলছে রদবদল
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 09 Jul 2026,
  • अपडेटेड 4:04 PM IST
  • গত ২৬ জুন গভীর রাতে চিনের প্রশাসন কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই ১৪ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়
  • তাঁদের মধ্যে ছিলেন এক প্রাক্তন প্রাদেশিক গভর্নর, একটি বড় শহরের মেয়র, দেশের শীর্ষ আর্থিক নিয়ন্ত্রক এবং ছয়জন সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা

চিনের সামরিক বাহিনীতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে শি জিনপিং প্রশাসন। এই অভিযান পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-র অভ্যন্তরে গভীর অস্থিরতা ও নেতৃত্বের সঙ্কট সামনে এনে দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

গত ২৬ জুন গভীর রাতে চিনের প্রশাসন কোনও ব্যাখ্যা ছাড়াই ১৪ জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন এক প্রাক্তন প্রাদেশিক গভর্নর, একটি বড় শহরের মেয়র, দেশের শীর্ষ আর্থিক নিয়ন্ত্রক এবং ছয়জন  সামরিক কর্মকর্তা।

বিশ্লেষকদের মতে, গত চার বছরে PLA-র নেতৃত্বে যে নজিরবিহীন রদবদল হয়েছে, এটি তারই আর একটি বড় অধ্যায়। ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১০০-রও বেশি সামরিক কর্মকর্তাকে হয় বরখাস্ত করা হয়েছে, নয়তো তদন্ত বা শৃঙ্খলামূলক নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

২০২৩ সালের পর থেকে এই অভিযান আরও দ্রুত গতিতে এগিয়েছে। এই সময় ৪২ জন সামরিক কর্মকর্তা, যার মধ্যে ১৯ জন পূর্ণ জেনারেল পদচ্যুত, তদন্তাধীন বা জনসমক্ষে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছেন। PLA-র আঞ্চলিক কমান্ডার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ সামরিক নেতৃত্ব- সবস্তরেই এর প্রভাব পড়েছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন (CMC)-এ, যা চিনের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ২০২২ সালে শি জিনপিং যে সাত সদস্যের কমিশন গঠন করেছিলেন, তার মধ্যে এখন শুধু দু'জন আগের সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শি জিনপিং নিজেও। বাকিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তদন্ত করা হচ্ছে অথবা তাঁদের বদলি করা হয়েছে।

সবচেয়ে নাটকীয় রদবদল হয়েছে রকেট ফোর্সে। যা চিনের প্রচলিত ও পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর দায়িত্বে রয়েছে। দুর্নীতি ও অস্ত্র কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগের পর ২০২৩ সালে এই বাহিনীর প্রায় গোটা নেতৃত্বই বদলে দেওয়া হয়।

গত দু’বছরেরও কম সময়ে দু'বার প্রতিরক্ষামন্ত্রী বদলেছে চিন। প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লি শাংফু কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে নেন নিজেকে। তারপরই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর আগের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও শি-র দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে অপসারিত হয়েছিলেন।

Advertisement

বেজিংয়ের দাবি, এই অভিযান শুধুমাত্র দুর্নীতি দূর করার জন্য। তবে বহু বিশ্লেষকের মতে, দুর্নীতির অভিযোগ এখন রাজনৈতিক আনুগত্য নিশ্চিত করার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২৬ সালে যখন দুই শীর্ষ সামরিক কমান্ডারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়, তখন PLA-র সরকারি মুখপত্র তাঁদের শুধু দুর্নীতির নয়, শি জিনপিংয়ের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও তোলে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, যাঁদের সরানো হয়েছে তাঁদের অনেককেই শি জিনপিং নিজে পদোন্নতি দিয়েছিলেন। চিন বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর নিয়োগ পাওয়া ৪৭ জন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার প্রায় ৮৭ শতাংশই এখন হয় বরখাস্ত, নয়তো তদন্ত বা সন্দেহের মুখে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি শি জিনপিংয়ের নিজের নেতৃত্বের উপর আস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার পরও নিজের মনোনীত কর্মকর্তাদের বারবার সরিয়ে দিতে হওয়া শাসনব্যবস্থার ভেতরের অবিশ্বাসকে স্পষ্ট করছে।

এই শুদ্ধি অভিযান এমন এক সময়ে চলছে, যখন শি জিনপিং PLA-কে ২০২৭ সালের মধ্যে যুদ্ধ জয়ের উপযোগী বাহিনীতে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এই সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু ধারাবাহিক তদন্ত, নেতৃত্বে শূন্যপদ, অনভিজ্ঞ নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ এবং রাজনৈতিক ভয়ের পরিবেশ দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পরিকল্পনাকে কঠিন করে তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে সেনা কর্মকর্তারা কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে রাজনৈতিকভাবে নিরাপদ অবস্থানকেই বেশি গুরুত্ব দিতে পারেন, যা বাস্তব যুদ্ধে PLA-র কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।

Read more!
Advertisement
Advertisement