
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আবারও পরিস্থিতি উত্তেজক। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক এয়ারস্ট্রাইকের পর শুক্রবার ভোরে বদলা নিল আফগানিস্তান। পাল্টা কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিয়া সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় হামলা শুরু করে পাকিস্তান। এদিকে, দাবি করা হচ্ছে, আফগানিস্তানে একটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানো হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালিবানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতেই পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আফগান সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ দাবি করেছে, তালিবান বাহিনী ওই বিমানটি ছিল F-16। এই দাবির বিষয়ে যদিও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশের দাবি, এটি পুরনো ভিডিও। এর সপক্ষে প্রমাণও দেখিয়েছেন কেউ কেউ।
উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোরে কাবুলে কমপক্ষে ৩টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। তবে হামলার সঠিক স্থান এবং হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। পাল্টা হামলায় মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে আফগান সেনা সীমান্তবর্তী পাক সেনাঘাঁটি এবং ১৯টি সেনা পোস্ট ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে তালিবান সরকার। আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, পাল্টা হানায় ৫৫ জন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েক জন পাক সেনাকে জীবিত বন্দি করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। কাবুলের দাবি, পাক হানায় আট তালিব যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১১ জন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, 'দেশের নিরাপত্তা বাহিনী যে কোনও বহিরাগত আগ্রাসী তৎপরতা প্রতিহত এবং দমন করতে সম্পূর্ণ সক্ষম। দেশের প্রতিরক্ষা নিয়ে কোনও ধরনের আপস করা হবে না।' পাকিস্তান সরকারের অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'প্রিয় মাতৃভূমির প্রকৃতিরক্ষার ক্ষেত্রে কোনও আপস হবে না। যে কোনও আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।' তিনি আরও বলেন, 'পাকিস্তানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী সবসময় দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রস্তুত। পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কোনও পরিস্থিতিতেই দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না।'