
তিন দিনের সফরে আমেরিকা গিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আর প্রোটোকল ভেঙে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে স্বাগত জানাতে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মেরিল্যান্ডের ওই সামরিক ঘাঁটিতে শি জিনপিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানককে স্বাগত জানাতে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।
এক দশকেরও বেশি সময় পর ওয়াশিংটনে পা রেখেছেন শি জিনপিং। আর তাঁর এই সফরকে যে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেটা ট্রাম্পের এহেন আচরণেই পরিষ্কার।
শি জিনপিং পৌঁছনোর পর ট্রাম্প ও শি হাত মেলান। তারপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। স্বাগত অনুষ্ঠানে সামরিক ব্যান্ড বাজানো হয়। সেই সঙ্গে কামানের তোপধ্বনির মাধ্যমে চিনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানো হয়।
যদিও এই সময় আকাশের উপর দিয়ে একটি B-1 বোমারু বিমান উড়ে যায়। তখন অবশ্য ট্রাম্প কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে যান। বৃহস্পতিবার তাঁদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সফরে দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান, ইরান সহ একাধিক বিতর্কিত বিষয়ে জটিল আলোচনা হতে পারে।
ওয়াশিংটনে পৌঁছনোর পর চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দাবি করেন, চিন ও আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পার্টনার হওয়া উচিত। চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিখিত বক্তব্যে শি বলেছেন, দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে তাঁর এই মার্কিন সফর ফলপ্রসূ হতে পারে।
কী কী বিষয়ে আলোচনা?
বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প এবং শি। আর এই আলোচনার দিকেই এখন তাকিয়ে বিশ্ব রাজনীতির বিশেষজ্ঞরা।
আসলে আমেরিকা-চিন বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সেটা আরও দুই মাস বাড়িয়ে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। এটা নিয়ে বৈঠকে আলোচনার সম্ভাবনা প্রবল।
এখানেই শেষ নয়, দুই দেশ নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক নিয়ে ছোট চুক্তি করেছে। মাদক পাচার রোধে সহযোগিতা এবং দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
এছাড়া AI নিয়েও বিশদে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার পরিস্থিতি কোন দিকে যায়
তাইওয়ান নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা
দুই শক্তিশালী দেশের রাষ্ট্রনেতার আলোচনায় সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলির মধ্যে অন্যতম হতে পারে তাইওয়ান। শি জিনপিং এই স্বশাসিত দ্বীপটির উপর চিনের দাবির কথা ফের তুলে ধরতে পারেন। অন্যদিকে, সংবেদনশীল প্রযুক্তি চিনে রফতানির ক্ষেত্রে আমেরিকার যে বিধিনিষেধ রয়েছে, ওয়াশিংটন তা বজায় রাখার অবস্থান নিতে পারে। আবার তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি কমানোর জন্যও ট্রাম্পের উপর চাপ তৈরি করতে পারেন শি।
ইরান নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা
ইরানও দুই নেতার আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বেজিংয়ের সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন মনে করে, ইরানের উপর চিনের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।
বিরাট আয়োজন
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে শি জিনপিংয়ের সম্মানে একটি আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে Apple-এর CEO টিম কুক, Nvidia-র CEO জেনসেন হুয়াং এবং OpenAI-এর CEO স্যাম অল্টম্যানের মতো প্রযুক্তি সংস্থার শীর্ষকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা।
এই সফরের কর্মসূচিতে হোয়াইট হাউসে সামরিক অনুষ্ঠানও রয়েছে। সেখানে যুদ্ধবিমানের আকাশপথে উড়ান এবং সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি শি জিনপিং ন্যাশনাল আর্কাইভসও পরিদর্শন করবেন। সেখানে আমেরিকার মূল সংবিধান এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংরক্ষিত রয়েছে।