Advertisement

Climate Crisis Warning : হঠাৎ হু হু করে গলতে শুরু করল সমুদ্রের বরফ, ভয়ঙ্কর দিন আসন্ন

এর ফলে সমুদ্র আরও বেশি সূর্যের তাপ শোষণ করতে পারে, যা আর্কটিকের তাপমাত্রা ও গোটা পৃথিবীর উষ্ণায়ন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিজ্ঞানীদের কাছে তাই বরফ গলার এই দীর্ঘ সময় জলবায়ু সঙ্কটের আরও একটি বড় সতর্কবার্তা।

পৃথিবীর এ কী অবস্থা হতে চলেছে! পৃথিবীর এ কী অবস্থা হতে চলেছে!
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 06 Sep 2026,
  • अपडेटेड 3:09 PM IST
  • হঠাৎ হু হু করে গলতে শুরু করল সমুদ্রের বরফ
  • ভয়ঙ্কর দিন আসন্ন

উত্তর মেরু ঘিরে থাকা আর্কটিক অঞ্চলে সমুদ্রের বরফ দ্রুত গলছে। শুধু বরফের পরিমাণই কমছে না, প্রতি বছর বরফ গলে থাকার সময়ও বাড়ছে। নতুন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ১৯৭৯ সালের তুলনায় আর্কটিক সাগরের বরফ গলার সময় এখন প্রায় সাড়ে ৭ দিন বেশি। এর ফলে সমুদ্র আরও বেশি সূর্যের তাপ শোষণ করতে পারে, যা আর্কটিকের তাপমাত্রা ও গোটা পৃথিবীর উষ্ণায়ন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিজ্ঞানীদের কাছে তাই বরফ গলার এই দীর্ঘ সময় জলবায়ু সঙ্কটের আরও একটি বড় সতর্কবার্তা। তাহলে কি অতি জাগতিক কিছু ঘটনার সাক্ষী থাকতে চলেছে পৃথিবী? 

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে করা এই বিশ্লেষণটি গত ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে। প্রায় পাঁচ দশকের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা শুধু আর্কটিকে কতটা বরফ রয়েছে তা দেখেননি। বরফের পুরুত্ব, বয়স এবং বরফের উপর জমে থাকা তুষারের পরিবর্তনও তাঁরা খতিয়ে দেখেছেন।

গবেষণাটির প্রধান লেখক এবং ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মেলিন্ডা ওয়েবস্টারের মতে, আর্কটিকের সমুদ্রের বরফের বিস্তার এবং পুরুত্ব কমছে। একথা বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই জানেন। নতুন গবেষণায় বরফের বৈশিষ্ট্যগুলির পরিবর্তন, বিশেষ করে যে বরফ গ্রীষ্মের গলনেও টিকে থাকে, তার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কেন বরফ গলার মরশুম চিন্তা বাড়াচ্ছে?

সমুদ্রের বরফ পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ সাদা বরফ সূর্যের আলো অনেকটাই প্রতিফলিত করে মহাকাশে ফিরিয়ে দেয়।
গবেষণা অনুযায়ী, উজ্জ্বল সমুদ্রের বরফ সূর্যের প্রায় ৬০ থেকে ৯০ শতাংশ আলো প্রতিফলিত করতে পারে। অন্যদিকে, বরফহীন গাঢ় সমুদ্রের জল মাত্র প্রায় ৭ শতাংশ আলো প্রতিফলিত করে। ফলে সমুদ্রের জল অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করে।

আর্কটিকে বরফ কমে গেলে আরও বেশি পরিমাণে গাঢ় সমুদ্রের জল সূর্যের সামনে উন্মুক্ত হয়। সেই জল বেশি তাপ শোষণ করে উষ্ণ হয়ে ওঠে। এই জমে থাকা তাপের কারণে শরৎকালে নতুন করে বরফ তৈরি হতে আরও দেরি হয়। অর্থাৎ, কম বরফ- বেশি সূর্যের আলো শোষণ- সমুদ্রের জল আরও উষ্ণ- বরফ তৈরি হতে আরও দেরি, এমন একটি চক্র তৈরি হচ্ছে।

Advertisement

নতুন বরফও হচ্ছে পাতলা

শুধু বরফ তৈরি হতে দেরি হচ্ছে তা নয়, যখন শেষ পর্যন্ত বরফ তৈরি হচ্ছে, সেটিও তুলনামূলকভাবে পাতলা এবং দুর্বল হচ্ছে। ফলে পরের বসন্ত ও গ্রীষ্মে সেটি আরও সহজে গলে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। এই প্রক্রিয়ায় এক বছরের কম বরফ পরের বছর আরও বেশি বরফ গলার পরিস্থিতি তৈরি করছে। ফলে আর্কটিকের উষ্ণায়ন আরও বাড়তে পারে।

পৃথিবীর তুলনায় আর্কটিক অনেক দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে

এই কারণে সমুদ্রের বরফকে শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের একটি সূচক হিসেবে দেখা যায় না। বরফ কমে যাওয়াই আবার উষ্ণায়নকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

আর্কটিকের বরফ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে। বরফ হারিয়ে গেলে সেই একই জায়গায় থাকা সমুদ্র বেশি সৌরশক্তি শোষণ করে। ফলে বরফ গলে যাওয়া নিজেই আরও উষ্ণতার কারণ হতে পারে।

পাতলা হচ্ছে তুষারের আস্তরণও

গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা উঠে এসেছে। আর্কটিকের সমুদ্রের বরফের উপর জমে থাকা তুষারেরস্তর পাতলা হয়েছে। একই সঙ্গে বরফের পৃষ্ঠ আগের তুলনায় মসৃণ হয়েছে।

এর প্রভাব শুধু জলবায়ুর উপর নয়, আর্কটিকের প্রাণীদের উপরও পড়তে পারে।

মেরু ভাল্লুক এবং সিল মোটা ও অসমান সমুদ্রের বরফের উপর জমে থাকা তুষারের স্তূপের উপর নির্ভর করে। এই তুষারের স্তূপের মধ্যে তারা ডেরা তৈরি করে এবং সেখানে সন্তানদের বড় করে। বরফ ও তুষারের গঠনে পরিবর্তন হলে তাদের বাসস্থান এবং প্রজননের পরিস্থিতিও প্রভাবিত হতে পারে।

প্রভাব পড়তে পারে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলেও

সমুদ্রের বরফের মধ্যে এবং তার আশপাশে থাকা শৈবাল আর্কটিকের সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। অত্যন্ত কম আলোতেও বেঁচে থাকার উপযোগী পরিবেশে এই শৈবালগুলি বিবর্তিত হয়েছে। বরফ ও তুষারেরস্তর পাতলা হলে বেশি সূর্যের আলো বরফ ভেদ করে নীচে পৌঁছতে পারে। এতে শৈবালের পরিবেশ বদলে যেতে পারে।

শৈবাল খাদ্যশৃঙ্খলের একেবারে নীচে থাকায় তাদের উপর পরিবর্তনের প্রভাব পরবর্তী ধাপে মাছ এবং অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর উপরও পড়তে পারে। এর ফলে আর্কটিক এবং তার সংলগ্ন সাব-আর্কটিক অঞ্চলের মৎস্যশিল্পও প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অ্যান্টার্কটিকায় পরিস্থিতি কেন আলাদা?

গবেষণায় আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিকার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যের কথাও বলা হয়েছে। আর্কটিক হল স্থলভাগ দিয়ে ঘেরা একটি মহাসাগর। অন্যদিকে, অ্যান্টার্কটিকা হল সমুদ্র দিয়ে ঘেরা একটি মহাদেশ। এই ভৌগোলিক পার্থক্যের কারণে দুই মেরুর জলবায়ু ব্যবস্থাও একভাবে পরিবর্তিত হয় না।

দীর্ঘ সময় ধরে অ্যান্টার্কটিকায় আর্কটিকের মতো সমুদ্রের বরফের ধারাবাহিক পতন দেখা যায়নি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পরিস্থিতি বদলেছে। গত চার বছরে অ্যান্টার্কটিকায় সমুদ্রের বরফের রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস হয়েছে। যদিও এর নির্দিষ্ট কারণ এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে বড় গবেষণার বিষয়।

অ্যান্টার্কটিকায় তথ্য সংগ্রহ করাও তুলনামূলকভাবে কঠিন। সেখানে পর্যবেক্ষণের সংখ্যা কম এবং সমুদ্রের বরফের ব্যবস্থা আরও জটিল। ফলে আর্কটিকের তুলনায় অ্যান্টার্কটিকার তথ্যও কম নির্ভুল।

কেন নতুন করে আন্তর্জাতিক গবেষণায় জোর?

এই গবেষণা এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন বিজ্ঞানীরা পঞ্চম ইন্টারন্যাশনাল পোলার ইয়ারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এটি পৃথিবীর দুই মেরু অঞ্চলে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার জন্য বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমন্বয়ের একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ।

সাধারণত ইন্টারন্যাশনাল পোলার ইয়ারের মধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ বছরের ব্যবধান থাকে। কিন্তু পরিবেশগত পরিবর্তনের গতি এত দ্রুত বেড়েছে যে পরবর্তী পোলার ইয়ারের আগের সময়সূচির তুলনায় অনেক আগেই আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে নতুন গবেষণাটি দেখাচ্ছে, আর্কটিকের পরিবর্তন শুধু বরফের পরিমাণ কমে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরফ গলার সময় দীর্ঘ হচ্ছে, নতুন বরফ তৈরি হতে দেরি হচ্ছে এবং তৈরি হওয়া বরফও পাতলা হচ্ছে। এর প্রভাব আর্কটিকের প্রাণী, সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল এবং বৃহত্তর জলবায়ু ব্যবস্থার উপর পড়তে পারে।

Advertisement

 
Read more!
Advertisement
Advertisement