
সোমবার সকালে বিধ্বংসী ভূমিকম্পের সাক্ষী থেকেছে ফিলিপিন্স। ৭.৮ মাত্রার কম্পনে প্রাণ খুইয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ২০০-রও বেশি মানুষ আহত। এখনও সেখানে সতর্কতা জারি রয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধারকার্য শুরু করলেও তা চলছে ধীর গতিতে। কারণ, বহু বাড়ি ও রাস্তায় ধস নামায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বহু এলাকা। এদিন উপকূলেও প্রায় ১ মিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়ে। তারপর থেকে আতঙ্কিত গোটা দেশ।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জেনারেল স্যান্টোস শহরে। সেখানে একাধিক বাড়ি ধসে পড়ে। শুধু সারাঙ্গানির গ্লান এলাকাতেই ভূমিকম্পের ফলে ১৩ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও সারাঙ্গানিতে আরও ৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
ফিলিপিন্সের আগ্নেয়গিরি ও ভূকম্পন সংস্থার প্রধান তেরেসিতো বাকলকল জানিয়েছেন, চলতি বছরে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলবর্তী সমুদ্র এলাকা। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৭.৮।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পের সময় বহু স্কুলে নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনের অনুষ্ঠান চলছিল। দক্ষিণাঞ্চলের মালিতা শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতাধিক ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ প্রবল কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও কোনও ছাত্রছাত্রী আহত হয়নি।
জেনারেল স্যান্টোস শহরে এখনও অন্তত চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। সুপারমার্কেট, গুদামঘর, স্কুল-সহ একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
ভূমিকম্পের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় জেনারেল স্যান্টোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বাতিল করা হয় অন্তত ১৭টি অভ্যন্তরীণ উড়ান। সেই দেশের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং উদ্ধার ও ত্রাণকাজ দ্রুত শুরু করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
সুনামির প্রভাবে সুলতান কুদারাত ও সারাঙ্গানি প্রদেশে প্রায় ১ মিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়। কিয়াম্বা শহরে একসময় ঢেউয়ের উচ্চতা ১.৪ মিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। ইন্দোনেশিয়া, পালাউ এবং জাপানের কিছু উপকূলেও ছোট আকারের সুনামি ঢেউ ধরা পড়ে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এর উপর অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপিন্সে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মুখোমুখি হয়। পাশাপাশি প্রতি বছর একাধিক ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতে দেশটি বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে বলে পরিচিত।