
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩০ জনের। বুধবার টলেডোর কাছে মোরার ও অর্গাজ শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের অভিঘাতে একাধিক কামরা লাইনচ্যুত হয়ে যায়। শুরু হয়েছে ব্যাপক উদ্ধারকাজ। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল ও চিকিৎসকদলের সদস্যরা। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারপর থেকে ওই লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৯টার কিছু পরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মাদ্রিদ থেকে সেভিলের পথে চলা রেনফে (Renfe) এবং ইরিও (Iryo) সংস্থার দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে ইরিও ট্রেনের অন্তত দুটি কামরা লাইনচ্যুত হয় বলে জানিয়েছেন কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা আঞ্চলিক সরকারের এক মুখপাত্র।
সংঘর্ষের অভিঘাতে একাধিক কামরা রেললাইন থেকে ছিটকে পাশের ঢাল বেয়ে নীচে নেমে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা আঞ্চলিক সরকারের মুখপাত্র এস্থার পাদিয়া জানিয়েছেন, ইরিও ট্রেনে এক শিশুসহ ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে, রেনফে ট্রেনে ছিলেন ৩৯৭ জন যাত্রী। দুর্ঘটনার পর দুই ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে কতজন আহত হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।
হাসপাতালে জরুরি ব্যবস্থা
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় প্রশাসন এবং জরুরি পরিষেবাগুলিকে সতর্ক করা হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য টলেডো, আলকাজার দে সান হুয়ান এবং সিউদাদ রিয়ালের হাসপাতালগুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী ও চিকিৎসকদল।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিয়োতে একাধিক কামরাকে দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। কোনও কোনও কামরা রেললাইনের পাশের ঢালে উল্টে পড়ে ছিল। আবার একটি কামরাকে উঁচু রেলপথের অংশে আটকে থাকতে দেখা যায়। চারদিকে ছড়িয়ে ছিল ভাঙা ধাতব অংশ ও কামরার বিভিন্ন টুকরো।
শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে তিনি পরিবহণমন্ত্রী এবং আঞ্চলিক সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানিয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনার কারণে বুধবারের নির্ধারিত কর্মসূচিও বাতিল করেছেন সানচেজ। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার পর বিরোধী পিপলস পার্টিও তাদের সমস্ত নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি বাতিল করেছে বলে দলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন।
একই রেলপথে আগেও ভয়াবহ দুর্ঘটনা
স্পেনে এই দুর্ঘটনা নতুন করে রেল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর প্রায় ন'মাস আগেও একই রেলপথে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কর্ডোবা প্রদেশের আদামুজের কাছে ইরিও সংস্থার একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে উল্টো দিক থেকে আসা রেনফে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সেই দুর্ঘটনায় ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরপর এমন দুর্ঘটনার পর রেল পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্পেনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বুধবারের দুর্ঘটনার পরও সেই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।