Advertisement

Israel Election 2026: নেতানিয়াহুর জেতা এ বারে কি চাপের? ইজরায়েল ভোটের অঙ্ক রইল

Benjamin Netanyahu: গোটা দেশই একটি মাত্র নির্বাচনী কেন্দ্র। ভারতের মতো আলাদা আলাদা লোকসভা কেন্দ্র নেই। ভোটাররা সরাসরি কোনও নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দেন না। রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী তালিকার মধ্যে একটি তালিকা বেছে নেন। প্রতিটি দল যত শতাংশ ভোট পায়, সেই অনুপাতে সংসদে আসন বণ্টন করা হয়। এই ব্যবস্থাকে বলা হয় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব।

ইজরায়েলে সাধারণ নির্বাচন - ছবি: AFPইজরায়েলে সাধারণ নির্বাচন - ছবি: AFP
Aajtak Bangla
  • তেল আভিভ,
  • 26 Oct 2026,
  • अपडेटेड 10:54 AM IST
  • ভোট দিতে প্রায় ৬৭ হাজার বিদেশে বসবাসকারী ইজরায়েলি দেশে ফিরেছেন
  • কেন গুরুত্বপূর্ণ ইজরায়েলে প্রবাসীদের ভোট?
  • একাধিক দলের লড়াই, সরকার গড়তে জোট ভরসা

দেশে ভোট। দলে দলে ইজরায়েল ফিরছেন ইহুদিরা। বিদেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ইহুদিদের এখন একটা টার্গেট, ভোট দিতে হবে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইজরায়েলে সাধারণ নির্বাচন। ব্যালট বক্সে নিজেদের মত প্রকাশ করতে একদিনের জন্য হলেও ইজরায়েলিরা দেশে ফিরছেন।

ইজরায়েলের রাজধানী তেল আভিভে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পর্যটকদের ভিড়ের চেয়ে অনেক বেশি ভিড় ভোট দিতে আসা নাগরিকদের। বহু ইজরায়েলি ফিরছেন শুধুমাত্র ভোট দিতেই। কারণ, ইজরায়েলের নিয়ম হল, বিদেশে থাকা ইজরায়েলের নাগরিকরা পোস্টাল ব্যালট কিংবা অনলাইনে ভোট দিতে পারেন না। তাঁদের সশরীরে দেশে থেকেই ব্যালট বক্সে ভোট দিতে হয়। 

ভোট দিতে প্রায় ৬৭ হাজার বিদেশে বসবাসকারী ইজরায়েলি দেশে ফিরেছেন

এবারে ইজরায়েলের ভোট অত্যন্ত তাত্‍পর্যপূর্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডেটা বলছে, ২৭ অক্টোবরের ভোট দিতে প্রায় ৬৭ হাজার বিদেশে বসবাসকারী ইজরায়েলি দেশে ফিরেছেন। বেশির ভাগই নিজেদের পয়সা খরচ করেই দেশে ফিরেছেন ভোট দেবেন বলে। তাঁদের প্রায় অর্ধেকই আসবেন আমেরিকা থেকে। এ ছাড়া ইউরোপ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশে ফিরছেন ইজরায়েলিরা। তাঁদের অধিকাংশই নিজেদের খরচে এই সফর করছেন।

বিমানবন্দরে পৌঁছনো একাধিক ইজরায়েলি নাগরিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, ভোট দিতে দেশে ফিরতে পেরে তাঁরা উচ্ছ্বসিত। আজারবাইজান-সহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকেও অনেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ফিরছেন।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ইজরায়েলে প্রবাসীদের ভোট?

ইজরায়েলের এই নির্বাচন যথেষ্ট হাড্ডাহাড্ডি হতে পারে বলে জনমত সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলেছে। দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ৭৩ লক্ষেরও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশে বসবাসকারী নাগরিকদের ভোট নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের অনুমান, এই ভোটের প্রভাব প্রায় দু’টি আসনের সমান হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিদেশে বসবাসকারী ইজরায়েলিদের দেশে ফিরিয়ে ভোট দেওয়ানোর একটি প্রচার অভিযান আটকানোর চেষ্টা করেছিল প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ, এমন অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

২০২২ সাল থেকে রেকর্ড সংখ্যক ইজরায়েলি দেশ ছেড়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদেরই অনেকে এবার ছুটি কাটাতে নয়, বরং দেশের সরকার নির্ধারণের নির্বাচনে অংশ নিতে ফিরছেন। ইজরায়েলের সংসদের নাম নেসেট (Knesset)। একটিই কক্ষ। মোট আসন ১২০টি। সাধারণত চার বছরের জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সংসদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচন করার নজির ইজরায়েলে রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদের ৮০ জন সদস্যের সমর্থনে মেয়াদ বাড়ানোও সম্ভব।

গোটা দেশই একটি মাত্র নির্বাচনী কেন্দ্র। ভারতের মতো আলাদা আলাদা লোকসভা কেন্দ্র নেই। ভোটাররা সরাসরি কোনও নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দেন না। রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী তালিকার মধ্যে একটি তালিকা বেছে নেন। প্রতিটি দল যত শতাংশ ভোট পায়, সেই অনুপাতে সংসদে আসন বণ্টন করা হয়। এই ব্যবস্থাকে বলা হয় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব।

৩.২৫ শতাংশ ভোট না পেলেই বাদ

ইজরায়েলের নির্বাচনে সংসদে প্রবেশের জন্য কোনও দলকে বৈধ ভোটের অন্তত ৩.২৫ শতাংশ পেতে হয়। যে দল এই সীমা অতিক্রম করতে পারে না, তাদের পাওয়া ভোট আসন বণ্টনের হিসাব থেকে বাদ পড়ে যায়। এরপর অবশিষ্ট ভোটের অনুপাতে যোগ্য দলগুলির মধ্যে আসন বণ্টন করা হয়। তবে আসন বণ্টনের হিসেব সব সময় সরল অঙ্কে মেলে না। কিছু আসন বণ্টনের পরেও ভোটের অবশিষ্টাংশ থেকে যায়। সেই অতিরিক্ত ভোটের ভিত্তিতে দলগুলির মধ্যে সমঝোতা হতে পারে। বাকি আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে ইজরায়েলে ব্যবহৃত হয় ‘বাডার-ওফার পদ্ধতি’, যা ইউরোপের ডি’হন্ড্ট পদ্ধতির অনুরূপ। এই পদ্ধতিতে আসনপ্রতি ভোটের গড় হিসাব করে অবশিষ্ট আসন বণ্টন করা হয়।

২০২২ সালের নির্বাচনে এই হিসাবের প্রভাব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। সে বার প্রায় তিন লক্ষ ভোটের সমতুল্য ভোট আসন বণ্টনের প্রক্রিয়ায় কার্যত পুনর্বণ্টিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবির ৬৪টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

একাধিক দলের লড়াই, সরকার গড়তে জোট ভরসা

ইজরায়েলের রাজনৈতিক মানচিত্র বহুদলীয়। দক্ষিণপন্থী লিকুদ, বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস, আল্ট্রা-অর্থডক্স ইহুদি দল, ধর্মীয় জায়নবাদী দল এবং আরব ও দ্রুজ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী দল। বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচনে অংশ নেয়। এতগুলি দলের উপস্থিতিতে কোনও একটি দলের এককভাবে ৬১টি আসন পাওয়া কঠিন। কারণ, সরকার গঠনের জন্য সংসদের ১২০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে ভোটগণনা শেষ হওয়ার পর শুরু হয় জোট গঠনের আলোচনা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের উপর হামাসের হামলা এবং এর ফলস্বরূপ গাজা, ইরান, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো অঞ্চলজুড়ে শুরু হওয়া যুদ্ধগুলির পরে এটিই প্রথম নির্বাচন। এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী প্রার্থীর মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এই নির্বাচন ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য উভয়ের ভবিষ্যতের জন্য নির্ণায়ক প্রমাণিত হতে পারে। 

গাদি আইজেনকোট: প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য নেতানিয়াহু এবং ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রাক্তন প্রধান গাদি আইজেনকোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। আইজেনকোটের জনপ্রিয়তার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে তার সামরিক অভিজ্ঞতা এবং একজন নতুন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার পরিচিতি; তিনি গত বছর নিজের ইয়াশার পার্টি গঠন করেছেন। আইজেনকোট ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান।

গাজা যুদ্ধের প্রথম মাসগুলিতে তিনি তাঁর ছেলেকে হারান। তাঁর ছেলে একজন সৈনিক ছিলেন। তিনি নেতানিয়াহুর অধীনে ইজরায়েলের যুদ্ধ মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধ পরিচালনার ব্যর্থতার কারণে আইজেনকোট ২০২৪ সালে পদত্যাগ করেন। ৭ অক্টোবরের হামলার কারণ হওয়া নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহিতার দাবিকে কেন্দ্র করে তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা গড়ে তুলেছেন। এই নির্বাচনে আইজেনকোটকে নেতানিয়াহুর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নাফতালি বেনেট: অন্যান্য বিরোধী নেতারাও যথেষ্ট প্রভাবশালী হয়ে এই লড়াইয়ে আছেন। তাই নির্বাচনে কার পাল্লা ভারী, তা স্পষ্ট নয়। আইজেনকোট ছাড়াও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং বামপন্থী প্রাক্তন জেনারেল ইয়ার গোলানও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। আভিগডর লিবারম্যানও নির্বাচনে লড়ছেন। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, নাফতালি বেনেট এবং আভিগডর লিবারম্যান নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আইজেনকোটের সঙ্গে হাত মেলাতে পারেন।

Advertisement

নাফতালি বেনেট, যাঁর জীবন তাঁকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রযুক্তির জগতে এবং অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নিয়ে গেছে, তিনি একজন ইসরায়েলি উচ্চ-প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং রাজনীতিবিদ। তিনি ২০২১-২২ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে, তাঁর ধর্মীয় রাজনৈতিক ঝোঁক, ইসরায়েলি বসতির পক্ষে তাঁর একনিষ্ঠ সক্রিয়তা এবং তাঁর বিতর্কিত ২০১২ সালের প্রস্তাব, যা পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ছিটমহলে সীমাবদ্ধ করে রাখত, এইসবের কারণে তাঁকে কখনও কখনও চরম-ডানপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তিনি ২০২১ সালে বাম ও ডানপন্থী দলগুলোর পাশাপাশি ইজরায়েলের কিছু প্যালেস্তাইন নাগরিকের প্রতিনিধিত্বকারী একটি দলকেও অন্তর্ভুক্ত করে একটি ঐতিহাসিক ঐক্য সরকার গঠন করেন। এক বছর পর ডানপন্থী সদস্যরা সরে দাঁড়ালে তার এই ভঙ্গুর জোটটি ভেঙে যায় এবং এর পরিবর্তে একটি বামপন্থী সরকার গঠিত হয়।

ইয়ার গোলান: ইয়ার গোলান ডেমোক্র্যাটস পার্টির চেয়ারম্যান। ইয়ার গোলান একটি অনন্য ও কঠিন অবস্থানে রয়েছেন। লেবার ও মেরেৎজ, এই দুটি প্রাক্তন বামপন্থী দলের একীভূতকরণের মাধ্যমে গঠিত ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা হিসেবে, তিনিই একমাত্র প্রধান রাজনৈতিক শক্তি যিনি একটি সুস্পষ্ট জায়নবাদী, উদারপন্থী এবং সামাজিক-গণতান্ত্রিক বিকল্প প্রস্তাব করেন।

১৯৬২ সালে গোলান হাইটসের রিশোন লেজিওনে জন্মগ্রহণ করে তিনি প্রায় চার দশক ধরে আইডিএফ-এ কর্মরত ছিলেন। প্যারাট্রুপারস ব্রিগেড থেকে শুরু করে তিনি নাহাল ব্রিগেড, জুডিয়া ও সামারিয়া ডিভিশন, হোম ফ্রন্ট কমান্ড এবং নর্দার্ন কমান্ডের নেতৃত্ব দেন। অবশেষে তিনি ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ হন এবং আইডিএফ-এর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হন।

গোলান ২০১৯ সালে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের নেতৃত্বাধীন জোটের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরে তিনি মেরেৎজ দলে যোগ দেন, নেসেটে দায়িত্ব পালন করেন এবং বেনেট-ল্যাপিড সরকারের অধীনে উপ-অর্থনীতি মন্ত্রী হন। তবে, ২০২২ সালে মেরেৎজ নির্বাচনী সীমা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে প্রথমবারের মতো ঐতিহ্যবাহী জায়নবাদী বামপন্থীরা সংসদীয় প্রতিনিধিত্বহীন হয়ে পড়ে। ৭ অক্টোবর তার জনসমক্ষে ভাবমূর্তিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পেরে, অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল তার উর্দি পরে, অস্ত্র হাতে তুলে নেন এবং একাই গাজার নিকটবর্তী এলাকাগুলিতে যান, যেখানে তিনি নোভা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল এলাকা থেকে জীবিতদের সন্ধান করে উদ্ধার করেন।

১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম পূর্ণ মেয়াদ শেষে নির্বাচন

ইজরায়েলের এই নির্বাচন নানা দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। ২৫তম নেসেট হবে ১৯৮৮ সালের পর প্রথম সংসদ, যেখানে পূর্ণ চার বছরের মেয়াদ শেষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর অর্থ হল, এত বছরের মধ্যে এই প্রথম ইজরায়েলি সংসদের একটি পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। 

Read more!
Advertisement
Advertisement