
Bhutan E20 Petrol: ভারত পেট্রোলে ইথানল মেশাচ্ছে। মেশাক। কিন্তু আমরা সেই তেল কিনব না। এমনটাই জানাল ভুটান। ভারতের E20 পেট্রল নিতে আপাতত রাজি নয় তারা। বরং যত দিন সাধারণ পেট্রোল পাওয়া যাবে, তত দিন সেই জ্বালানিই সাপ্লাইয়ের অনুরোধ জানিয়েছে তারা। ভুটানের সংবাদপত্র দ্য ভুটানিজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি (OMCs) ভুটানকে E20 জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ভুটানের বাণিজ্য দফতর সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। কারণ, তাদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিতে E20 জ্বালানি ব্যবহার করলে তার স্টোরেজ এবং গাড়ির পারফরম্যান্স; দু'দিকেই সমস্যা তৈরি হতে পারে।
কেন আপত্তি ভুটানের?
ভুটানের অধিকাংশ জ্বালানি স্টোরেজ ট্যাঙ্ক মাটির নিচে তৈরি। পুরনো এই ট্যাঙ্কগুলিতে জল ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। আর সেখানেই E20 পেট্রোল নিয়ে বড় উদ্বেগ। কারণ, ইথানল সহজেই বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে। ফলে ট্যাঙ্কে সামান্য জল ঢুকলেও E20 জ্বালানির গুণমান দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথানলে থাকা হাইড্রক্সিল গ্রুপের কারণে এটি অত্যন্ত হাইগ্রোস্কোপিক। অর্থাৎ পরিবেশ থেকে সহজেই আর্দ্রতা টেনে নেয়। এর ফলে জ্বালানিতে জল মিশে গেলে তা সহজে আলাদা করা যায় না। এতে জ্বালানির মান যেমন কমে, তেমনই স্টিলের ট্যাঙ্ক ও পাইপলাইনে মরচে ধরার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে গাড়ির ইঞ্জিন এবং পারফরম্যান্সে এর প্রভাব পড়তে পারে।
পাহাড়ি জায়গায় আরও বড় চ্যালেঞ্জ
পাহাড়ি এলাকার বাইক গাড়ির একটু টর্ক বেশি লাগে। খাঁড়া রাস্তায় উঠতে হয়। সেক্ষেত্রে ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। E20 পেট্রোলে গাড়ির পিকআপ কমে যাবে বলে আশঙ্কা ভুটানের।
এ ছাড়া ভুটানের অধিকাংশ ফুয়েল ডিপো এমন এলাকায় রয়েছে, যেখানে আর্দ্রতা অনেক বেশি। ফলে ট্যাঙ্কে কনডেনসেশন বা জলীয় বাষ্প জমা হওয়া রোধ করাও কঠিন। এই কারণেও E20 জ্বালানি সংরক্ষণকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে সে দেশের প্রশাসন।
ভারত থেকে কী ধরনের জ্বালানি নেয় ভুটান?
বর্তমানে ভুটান ভারত থেকে উচ্চমানের এক্সপোর্ট গ্রেড পেট্রোল এবং ডিজ়েল আমদানি করে। এই জ্বালানির দাম ভারতের সাধারণ পেট্রল পাম্পে বিক্রি হওয়া জ্বালানির তুলনায় বেশি। তবে ভারতীয় সংস্থা IOCL, BPCL এবং HPCL-এর E20 সরবরাহের প্রস্তাব স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে ভুটানের বাণিজ্য দফতর।
একই সঙ্গে ভুটান ভারতীয় তেল সংস্থাগুলিকে অনুরোধ করেছে, ভবিষ্যতে যদি ভারতে পেট্রলে ইথানলের মিশ্রণের হার আরও বাড়ানো হয় বা সম্পূর্ণ ইথানলভিত্তিক জ্বালানির দিকে দেশ এগোয়, তবে আগে থেকেই তাদের জানানো হোক। পাশাপাশি লিক-প্রুফ জ্বালানি ট্যাঙ্কের ব্যবস্থার বিষয়েও আবেদন জানিয়েছে তারা।
ভারতে E20 নিয়ে বিতর্ক
ভারতে E20 পেট্রল নিয়ে বিতর্ক কারও অজানা নয়। বিশেষ করে ২০২৩ সালের আগে তৈরি বহু পেট্রোলচালিত গাড়ির মালিকদের অভিযোগ, E20 ব্যবহারে মাইলেজ কমছে। মেনটেনেন্সের খরচ বাড়ছে। ইঞ্জিনের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, মাইলেজে সামান্য প্রভাব পড়লেও ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স এবং অ্যাক্সিলারেশন উন্নত হয়। তবে আদালতে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, পেট্রোলে ইথানল মেশানোটা 'এক্সপেরিমেন্ট' হিসাবে করছেন তাঁরা।