
তাইওয়ানের আকাশে চিনের টহল। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাইওয়ান সংলগ্ন আকাশে ৪৯টি চিনা যুদ্ধবিমান রীতিমতো চক্কর কাটল। শুধু তাই নয়, রেডারে ছ’টি নৌবাহিনীর জাহাজও দেখা গিয়েছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানেই চিন হঠাৎ এত বিপুল সামরিক তৎপরতা দেখাচ্ছে কেন? তাহলে কি তাইওয়ানের বিরুদ্ধে বড় কোনও সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বেজিং?
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ৩ নভেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ৬টা পর্যন্ত এই গতিবিধি নজরে এসেছে। চিনা বিমানগুলির মধ্যে ৩১টি তাইওয়ান প্রণালীর মধ্যরেখা পেরিয়ে দ্বীপটির এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জ়োন বা এডিআইজ়েডে প্রবেশ করে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে এক দিনে ৪২টি চিনা বিমানের উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছিল। এ বার সেই সংখ্যাও ছাপিয়ে গেল।
তবে এডিআইজ়েডে প্রবেশ মানেই তাইওয়ানের সার্বভৌম আকাশসীমায় ঢুকে পড়া নয়। এই অঞ্চল মূলত নজরদারি ও বিমান শনাক্ত করার জন্য নির্ধারিত। কিন্তু বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমানের মধ্যরেখা পার হওয়া তাইপের উপর সামরিক চাপ বাড়ায়।
চিনা বিমান ও জাহাজের গতিবিধির উপর নজর রাখতে যুদ্ধবিমান, নৌবাহিনীর জাহাজ এবং ক্ষেপণাস্ত্র পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে তাইওয়ান। পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য বিপদের মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকাই এর উদ্দেশ্য। তবে দুই পক্ষের সামরিক বাহিনী কাছাকাছি থাকলে ভুল বোঝাবুঝি থেকেও সংঘাত ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে
চিনের নৌবাহিনীতে ৪০০-র বেশি জাহাজ রয়েছে। যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরী ও ডুবোজাহাজের শক্তিও ক্রমশ বাড়াচ্ছে বেজিং। তাইওয়ানের আশপাশে এমন তৎপরতা সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি আমেরিকা ও তার সহযোগীদের উদ্দেশেও বার্তা হতে পারে।
চিন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। অন্য দিকে, তাইওয়ান নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও স্বশাসন বজায় রেখেছে। আমেরিকার সামরিক সহযোগিতাও এই বিরোধকে আরও আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে।
তবে ৪৯টি বিমানের উপস্থিতি দেখেই যুদ্ধ আসন্ন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। সামরিক মহড়া, রাজনৈতিক বার্তা কিংবা নিয়মিত টহলও এর কারণ হতে পারে। আগামী দিনে চিনের গতিবিধি এবং আমেরিকার প্রতিক্রিয়ার উপর নজর থাকবে গোটা বিশ্বের।